ইরানের সঙ্গে এখনো কূটনৈতিক সমাধানে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র, শর্ত দিলেন মার্কো রুবিও

২০ জুলাই ২০২৬ - ২১:৩৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইরানের সঙ্গে এখনো কূটনৈতিক সমাধানে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র, শর্ত দিলেন মার্কো রুবিও
ছবি: সংগৃহীত

তেহরানের সঙ্গে বিদ্যমান সংকট নিরসনে ওয়াশিংটন এখনো কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রেখেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে এর জন্য ইরানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে হবে এবং আগ্রাসী মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে বলে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

​গত রবিবার রাতে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার অঙ্গীকার করে এক সপ্তাহ আগে ইরানের একটি বিবৃতি দেওয়ার কথা ছিল। তবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণার পরিবর্তে গত শুক্র বা শনিবারের দিকে ইরান উল্টো তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তাই ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন দেখতে হলে ইরানকেই আগে নিজেদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড থামাতে হবে।

​মার্কো রুবিওর মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বর্তমানে স্পষ্ট বিভাজন পরিলক্ষিত হচ্ছে। একপক্ষে রয়েছে চরমপন্থী কট্টরপন্থীরা, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যেতে চায়। অন্যদিকে অর্থনৈতিক মন্দা ও মন্দ পরিস্থিতির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করা আরেকটি গোষ্ঠী রয়েছে। ইরানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আগ্রহী পক্ষটি যদি দেশটির নীতিনির্ধারণ কিংবা আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পায়, তবে তা ইতিবাচক ফল আনবে বলে মনে করেন তিনি।

​ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে তেহরান সরকারের বিদেশি প্রক্সি সংস্থায় অর্থায়নের নীতিকে দায়ী করেন রুবিও। তিনি অভিযোগ করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল কিংবা জ্বালানি তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত সিংহভাগ অর্থই তারা হিজবুল্লাহ, হামাস ও ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে সচল রাখতে ব্যয় করেছে। এসব বিপুল অর্থ বিদেশি সংস্থায় না ঢেলে দেশের অবকাঠামো ও জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত ছিল বলে মত দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

​এদিকে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির এই সংকটাপন্ন সময়ে বাণিজ্যিক নৌযানগুলোর নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব মার্কিন বাহিনীই পালন করছে। এই নিরাপত্তা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সার্বিক সেবা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। সে কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান—অন্যান্য দেশগুলোও বিশ্ব বাণিজ্য সচল রাখার এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়ভার বহনে আর্থিক কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসুক।

​ইরানের আন্তর্জাতিক নৌপথ বেআইনিভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে বৈশ্বিক সম্প্রদায় কীভাবে দেখবে, তা নিয়ে সবাইকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0