বিশ্ববাজারে ফের কমলো স্বর্ণের দাম, তেল ও অন্য ধাতুর দর ঊর্ধ্বমুখী
মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দর বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে সোনার দামে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম কিছুটা কমেছে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৮টা ৪২ মিনিটের দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪,০১৪.৫৩ ডলারে নেমে আসে। তবে আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তি করা যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম ৪,০১৯.৮০ ডলারে স্থির ছিল।
ভূরাজনৈতিক সংকট ও বাজার বিশ্লেষণ
জর্ডানে দুইজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহতের ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে টানা নবম রাতের মতো হামলা চালাই যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকেও নতুন করে ইরানি হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করেছে।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওনড্যা’ (OANDA)-র জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেভিন ওং জানান, সপ্তাহান্তের এই সামরিক সংঘাত দুপক্ষের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি যদি একসঙ্গে দেখা দেয়, তবে স্বর্ণবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ এমন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সোনা ধরে রাখার সুযোগ-ব্যয় বা অপারচুনিটি কস্ট বৃদ্ধি পায়।
তিনি দীর্ঘ মেয়াদে স্বর্ণের বাজার নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, প্রতি আউন্স ৩,৮৮৬ ডলার হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল স্তর। বাজার দর এই সীমার নিচে নেমে গেলে তা আরও কমে ৩,৫০০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।
রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম
স্বর্ণের দামে পতন হলেও অন্যান্য মূলবান ধাতুর বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৫৬.৯৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে প্ল্যাটিনামের দর ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,৫৯৯.৯৭ ডলারে পৌঁছালেও বিপরীত চিত্রে প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ১,২৪৪.৫০ ডলারে নেমে এসেছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











