ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি: ‘১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে’

১১ জুলাই ২০২৬ - ১২:২৮
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি: ‘১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ( ছবি: সংগৃহীত)

ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রাণনাশের চেষ্টা করা হলে তেহরানের ওপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আগাম নির্দেশনা দিয়ে রাখা হয়েছে।

​শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে অর্থাৎ আমাকে হত্যা বা হত্যার অপচেষ্টা করে, তবে তা মোকাবিলায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তু তাক করে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরপর প্রয়োজনে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে।’ তিনি আরও জানান, এ সংক্রান্ত সামরিক আদেশ আগে থেকেই জারি করা আছে। প্রয়োজন দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী টানা এক বছর বা তার চেয়েও বেশি সময় ধরে ইরানের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম ও প্রস্তুত রয়েছে।

​এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যত 'শেষ' বলে ঘোষণা করলেও, পরবর্তীতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তেহরানের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা সচল রাখতে উভয় পক্ষই রাজি হয়েছে। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইল সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বিশেষ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে, যেখানে ট্রাম্পকে হত্যার বিষয়ে ইরানের নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে।

​গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে একমত হয়েছিল দুই দেশ। ওই সমঝোতায় সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। মার্কিন বাহিনী ইরানের কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে, এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায়।

লেবাননে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক প্রতিনিধিদল

এদিকে, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তিটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধিদল শিগগিরই লেবানন সফরে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস'-এর প্রতিবেদনে লেবাননের দুজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এই প্রতিনিধিদলটি আগামী সপ্তাহে ইতালির রোমে অনুষ্ঠিতব্য লেবানন-ইসরাইল দ্বিপক্ষীয় কারিগরি বৈঠকের আগেই বৈরুতে পৌঁছাবে।

​গত ২৬ জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই চুক্তির আলোকে ধাপে ধাপে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি কার্যকর করাই হবে এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেন্টকম বর্তমানে উভয় দেশের সাথে কারিগরি ও লজিস্টিক বিষয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। চুক্তি বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রথম পরীক্ষামূলক অঞ্চলটি (পাইলট জোন) কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১২ হাজার ২০৪ জন আহত হয়েছেন।

সৌদি যুবরাজের সাথে ট্রাম্পের ফোনালাপ

ইরান পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে গত শুক্রবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স তথা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে টেলিফোনে বিশেষ আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তাদের এই আলাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংলাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা রক্ষা ও সমুদ্রপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করাসহ সামগ্রিক আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে উভয় নেতাই একমত পোষণ করেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0