চট্টগ্রামের বন্যা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জরুরি নির্দেশনা

১০ জুলাই ২০২৬ - ১৬:৩৬
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
চট্টগ্রামের বন্যা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জরুরি নির্দেশনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ( ফাইল ছবি সংগৃহীত)

টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় দেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্ট ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০টি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এই নির্দেশনাগুলোর কথা বিস্তারিত জানান।

​মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, সংকটের এই সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি বা মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব স্তরের নেতা-কর্মীকে মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি প্রধান উদ্যোগ নিচে তুলে ধরা হলো:

  1. সার্বক্ষণিক মনিটরিং: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
  2. আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন: চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
  3. আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা: জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দ্রুততম সময়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
  4. মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরণ: বন্যাকবলিত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  5. সেনাবাহিনী মোতায়েন: পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
  6. জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ: স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ সশরীরে দুর্গত এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
  7. সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতা: সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠপর্যায়ে একযোগে কাজ করছে।
  8. পরীক্ষা স্থগিত: ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
  9. ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো: দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতা-কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।
  10. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে সেটি ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এর দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।

​মুখপাত্র মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক প্রয়াস ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খুব দ্রুত এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0