বিশ্বকাপে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ দিয়োপ, দেশমের উপেক্ষার জবাব দিতে মরক্কো শিবিরে ফরাসি ডিফেন্ডার
আগামী মরক্কো বনাম ফ্রান্স ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে মাঠের একঝাঁক তারকার ওপর। তবে এই ম্যাচের ভিন্ন এক আবহে পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছেন ডিফেন্ডার ইসা দিয়োপ। একসময় ফ্রান্সের জার্সিতে ট্রফি জিতলেও, আজ তিনি ফরাসি শিবিরের জন্য বড় চিন্তার কারণ। বোস্টনে অনুষ্ঠিতব্য এই লড়াইয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে ফুলহ্যামের এই ডিফেন্ডারকে, যাকে অবহেলা করার খেসারত দিতে হতে পারে ফরাসিদের।
জন্মসূত্রে ফরাসি হলেও দিয়োপ আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করছেন মরক্কোর। অথচ তার আজীবনের স্বপ্ন ছিল ফ্রান্সের সিনিয়র দলের হয়ে মাঠ মাতানো। ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলগুলোতে নিয়মিত খেলেছেনও তিনি। বিশেষ করে ২০১৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানের জয়ে একটি গোলও করেছিলেন দিয়োপ। সেই দলে তার সতীর্থ হিসেবে ছিলেন বর্তমান ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে ও মার্কাস থুরাম। এবারের বিশ্বকাপে সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা সেই এমবাপেকে বোতলবন্দি করার মূল দায়িত্বটিই থাকবে দিয়োপের কাঁধে।
ফ্রান্সের তুলোসে জন্ম নেওয়া দিয়োপের মা মরক্কান এবং বাবা সেনেগালি। ফলে মরক্কো ও সেনেগাল দুই দেশের পক্ষ থেকেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফ্রান্সের সিনিয়র দলে খেলার তীব্র বাসনা থেকে বারবার সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, তৎকালীন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম একদিন তাকে জাতীয় দলে ডাকবেন। অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে অনূর্ধ্ব-২১ দল পর্যন্ত নীল জার্সিতে ৪০টি ম্যাচ খেলা দিয়োপের সেই স্বপ্ন অবশ্য পেশাদার ক্যারিয়ারে পা রাখার পর আর পূরণ হয়নি। ওয়েস্ট হ্যাম ও ফুলহ্যামের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে লম্বা সময় ধরে সফলভাবে খেললেও দেশমের ডাক পাননি তিনি।
একসময় নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে দিয়োপ বলেছিলেন, "আমি ফরাসি, ফ্রান্সে আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ফ্রান্স আমাকে সবকিছু দিয়েছে। কেবল ফরাসি জাতীয় দল ডাকেনি বলে অন্য কোনো দেশের হয়ে খেলা আমার কাছে ভন্ডামি মনে হবে।"
তবে দৃশ্যপট বদলে যায় মরক্কোর বর্তমান কোচ মোহামেদ ওয়াহবি দায়িত্ব নেওয়ার পর। গত মার্চে তিনি দিয়োপের সাথে যোগাযোগ করেন এবং মরক্কোর হয়ে খেলার যৌক্তিকতা বুঝিয়ে তাকে রাজি করান। ফলস্বরূপ, ২৯ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান এই ডিফেন্ডার। দিয়োপের অতীত বক্তব্য নিয়ে মরক্কোর সমর্থকদের মাঝে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও কোচ ওয়াহবি তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। ওয়াহবি বলেন, "ছোটবেলায় সে ফ্রান্সের হয়ে খেলতে চেয়েছিল, কিন্তু কখনো মরক্কোর বিরোধিতা করেনি। অতীত নিয়ে পড়ে না থেকে আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে।"
মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে মরক্কোর জার্সিতে অভিষেক হওয়া দিয়োপ দ্রুতই চাডি রিয়াদের সাথে রক্ষণভাগে নিজের জায়গা পাকা করে নেন। চলতি বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান তিনি, যা পরবর্তীতে টাইব্রেকারে আফ্রিকানদের জয় নিশ্চিত করে।
মরক্কো দলে দিয়োপ একাই নন, তার মতো ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া আরও পাঁচজন ফুটবলার এবার দেশমের ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছেন। তারা হলেন ডিফেন্ডার রেদুয়ান হালহাল, মিডফিল্ডার নিল এল আইনাউই, ফরোয়ার্ড জেসিম ইয়াসিন, মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি এবং এল মৌরাবেত। এই ছয় ফুটবলার ফরাসিদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারেন, যার মধ্যে অন্যতম মূল চরিত্র ইসা দিয়োপ। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে দিয়োপ হয়তো ফরাসি কোচ দেশমকে বুঝিয়ে দেওয়ার অপেক্ষায় আছেন যে, তাকে দলে না নিয়ে কতটা ভুল করেছিল ফ্রান্স।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











