যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সংকটে অচল চীনের বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম ‘লগইঙ্ক’
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডেটা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে পরিচিত চীনের ‘লজিস্টিকস ডেটা এক্সচেঞ্জ’ বা ‘লগইঙ্ক’ প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি, নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের মুখে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিস্তার থেকে পিছিয়ে এসেছে বেইজিংভিত্তিক এই লজিস্টিকস ব্যবস্থা। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারে আর্থিক অনিয়ম ও বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় আইনি জটিলতায় পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাগুলো থেকে লগইঙ্ক নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাদের নির্ধারিত অংশীদারত্ব চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন থমকে গেছে।
পরিত্যক্ত ওয়েনঝৌ কার্যালয়
সম্প্রতি চীনের উপকূলীয় শহর ওয়েনঝৌতে অবস্থিত লগইঙ্কের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা দেখতে পান, শাখাটি পুরোপুরি অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কার্যালয়ে আলো জ্বলছিল না, অভ্যর্থনা কেন্দ্র খালি ছিল এবং কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সংযোগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সাড়া দেননি। অন্যদিকে চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও সম্প্রতি নীতিমালায় এটিকে চীনের অভ্যন্তরীণ ডেটা বিনিময়েই সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ
বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্য সামুদ্রিক রুট দিয়ে পরিবহণ করা হয়। পণ্য পরিবহনের তথ্য ডিজিটালাইজড করার উদ্দেশ্যে গঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে প্রায় চার বছর আগে সতর্কবার্তা জারি করেছিল ওয়াশিংটন।
মার্কিন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, লগইঙ্কের মাধ্যমে চীন বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনের সময়, পরিমাণ ও বাজারমূল্যের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হতে পারত। এই তথ্যের সাহায্যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক বাজারে অনৈতিক বাণিজ্যিক সুবিধা পেত বলে অভিযোগ তোলা হয়। তাছাড়া, তাইওয়ান ও ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ওপর বেইজিং নজরদারি করতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের সরকারি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে লগইঙ্কের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সাবেক মার্কিন ইউএস-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের চেয়ারম্যান র্যান্ডাল শ্রাইভার জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সতর্ক করার ফলেই লগইঙ্কের বৈশ্বিক বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
যদিও ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরে দেওয়া এক বক্তব্যে লগইঙ্কের কর্মকর্তা লি ঝাও দাবি করেছিলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়মিত নজরদারি বা সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কোনো কারিগরি ক্ষমতা তাদের নেই। তবে ওয়াশিংটনের কড়া অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চীনের এই উদ্যোগ বর্তমানে বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











