কাশ্মীরের গহীন জঙ্গলে সাইলেন্ট নেটওয়ার্ক ‘লোরা’: নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

০৬ অক্টোবর ২০২৬ - ০২:৫৫
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
কাশ্মীরের গহীন জঙ্গলে সাইলেন্ট নেটওয়ার্ক ‘লোরা’: নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
ছবি সংগৃহীত

জম্মু ও কাশ্মীরের দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চলে সিম কার্ড, মোবাইল টাওয়ার কিংবা ওয়াই-ফাই সংযোগ ছাড়াই সক্রিয় এক ধরনের গোপন যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ট্র্যাকিং এড়িয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় 'লোরা' (লং রেঞ্জ, লো পাওয়ার) নামের বিশেষ এক বেতার প্রযুক্তি ব্যবহার করছে অঞ্চলটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

​অফ-গ্রিড প্রযুক্তি ও ‘লোরা’র ব্যবহার

সম্প্রতি কাশ্মীরে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে নিহত পাকিস্তানি সন্ত্রাসী কমান্ডারদের কাছ থেকে অত্যাধুনিক অফ-গ্রিড হ্যান্ডসেট জব্দের পর বিষয়টি গোয়েন্দাদের নজরে আসে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বুদগামের গুরুতওয়াতকালানে এক বন্দুকযুদ্ধে লস্কর-ই-তৈয়বার শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা ফৌজি নিহত হন। তার লাশ উদ্ধারের পর সঙ্গে 'লোরা আলট্রা' লেখা একটি কালো রঙের বিশেষ ডিভাইস পাওয়া যায়।

​নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, এসব ডিভাইস এনক্রিপ্টেড এবং মেশ-ভিত্তিক রেডিও প্রযুক্তিতে কাজ করে। এগুলো সাধারণ ওয়াকিটকি বা মোবাইল ফোন নয়। এতে কোনো সিম কার্ডের প্রয়োজন হয় না এবং প্রতিটি হ্যান্ডসেট নিজেই একটি রিলে টাওয়ারের মতো সংকেত পাঠাতে পারে। ফলে প্রচলিত মোবাইল নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে এদের ডিজিটাল অবস্থান বের করা সম্ভব হয় না।

​কীভাবে কাজ করে এই নেটওয়ার্ক?

'লোরা' প্রযুক্তি অত্যন্ত নিম্নমাত্রার রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে ঘন জঙ্গলের ভেতর ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লিখিত বার্তা, লাইভ জিপিএস লোকেশন ও জুরুরি এসওএস সংকেত পাঠাতে পারে। একটি হ্যান্ডসেটের সংকেত অন্য হ্যান্ডসেটে লাফিয়ে পৌঁছে যায়, যা পাহাড়ি এলাকায় সম্পূর্ণ অফ-লাইন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করে। দাচিগাম ও পাহালগাম বনাঞ্চলে পরিচালিত ‘অপারেশন মহাদেব’-এর সময়ও অনুরূপ একাধিক এনক্রিপ্টেড লোরা সেট এবং সিমবিহীন বার্নার ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

​পাকিস্তান ও চীন সংযোগের ইঙ্গিত

ভারতের ন্যাশনাল টেকনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (এনটিআরও)-এর ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব প্রযুক্তি পণ্য স্থানীয়ভাবে তৈরি নয়। এগুলো সীমান্ত পার থেকে আগে থেকেই বিশেষ এনক্রিপশন ও কনফিগারেশন করে সরবরাহ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, কৌশলগত পরিকল্পনা পাকিস্তান থেকে করা হলেও এই এনক্রিপ্টেড প্রযুক্তির জোগান আসছে চীন থেকে।

​নিরাপত্তা বাহিনীর নতুন প্রস্তুতি

গোপন এই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি মোকাবিলায় নিজেদের কৌশল ও স্পেকট্রাম জ্যামার নতুন করে সমন্বয় করছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এখন আর শুধু সিম কার্ড ট্র্যাকিংয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং নীরব রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত করার ওপরই জোর দিতে হচ্ছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0