ইরানে হামলার আধা ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউসের বার্তা পান কাতারের প্রধানমন্ত্রী: পিয়ার্স মরগানকে সাক্ষাৎকার
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার মাত্র ৩০ মিনিট আগে বিষয়টি হোয়াইট হাউসের মাধ্যমে জানতে পারেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-খানি। ওই সময় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত থাকায় যুদ্ধ এড়ানো বা সামরিক পদক্ষেপ ঠেকানোর জন্য কার্যকর কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার মতো কোনো সুযোগ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।
কূটনীতি ও আকস্মিক সংঘাত
ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে কাতারের প্রধানমন্ত্রী জানান, হামলার বার্তা পাওয়ামাত্রই তাঁর প্রথম চিন্তা ছিল এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব কি না। তবে ততক্ষণে অভিযান কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি আরও আগে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হতো, তবে কাতার সম্ভাব্য সকল কূটনৈতিক তৎপরতা চালাইত। কারণ কাতার যেকোনো সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিকেই একমাত্র পথ বলে মনে করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলার ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে কাতার ভূখণ্ডেও ইরান আঘাত হানে, যা তাঁদের জন্য অত্যন্ত আকস্মিক ও বিস্ময়কর ছিল।
সংক্ষিপ্ত সতর্কবার্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব
দোহায় নিজের বাসভবনে অবস্থানকালে হোয়াইট হাউস থেকে টেলিফোন পান বলে উল্লেখ করেন আল-খানি। এত অল্প সময়ের মধ্যে নোটিশ পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি, যুদ্ধ ঠেকাতে দোহার অব্যাহত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কাতারে ইরানের হামলার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। সাম্প্রতিক এই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে একটি ‘ভূমিকম্প’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এটি যুদ্ধের রণকৌশল ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন নিয়ে আসছে।
দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক যোগাযোগ
সিরিয়া ইস্যুসহ কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমত থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরানকে চিরস্থায়ী প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করেন আল-খানি। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান বা মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই বলে জানান তিনি। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাতারের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ সচল রয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
চলমান যুদ্ধের প্রভাবে কাতারের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি প্রায় ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, পর্যটন খাত কমেছে ৮০ শতাংশ এবং ৬০ শতাংশ হোটেল রুম খালি পড়ে আছে। এর ফলে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব হারিয়েছে দেশটি। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এলএনজি রপ্তানি বাধার মুখে পড়লেও ক্রেতাদের পরিবহনের দায়িত্ব নেওয়ার শর্তে সীমিত পরিসরে সংযোগ চালু রাখা হয়েছে। তবুও ১৯৯০-এর দশকের আর্থিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নিজেদের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার শক্তিতে কাতার এই সাময়িক সংকট কাটিয়ে উঠবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











