পে-ফিক্সেশন শুরু সোমবার: ৩ মাসের বকেয়াসহ অক্টোবরের বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

০৪ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:১৮
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
পে-ফিক্সেশন শুরু সোমবার: ৩ মাসের বকেয়াসহ অক্টোবরের বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা
ছবি: সংগৃহীত

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো (পে-স্কেল) অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ (পে-ফিক্সেশন) কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এর মাধ্যমে অনলাইনে এ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে পুরো কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। পে-ফিক্সেশন চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীরা অক্টোবরের নিয়মিত বেতনের সঙ্গেই গত তিন মাসের বকেয়া টাকা একসঙ্গে উত্তোলন করতে পারবেন।

​অনলাইনে তথ্য পূরণ ও যাচাই প্রক্রিয়া

বেতন নির্ধারণের জন্য সরকারি কর্মচারীদের আইবাস প্লাস প্লাসের নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। এতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি, চাকরির গ্রেড, যোগদানের তারিখ ও মূল বেতনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পূর্বে পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশের নথিপত্র প্রস্তুত রেখে তথ্য মেলাতে হবে। কোনো কারণে এনআইডি না থাকলে চাকরির অফিসিয়াল সার্ভিস বইয়ের তথ্য হালনাগাদ করে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

​কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইন আবেদন সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করবে। তথ্যে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। প্রক্রিয়াটি ত্রুটিমুক্ত রাখতে ‘এসপিএফএমএস’ কর্মসূচির অধীনে বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা ও উপজেলা হিসাব কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন মূল বেতন ও বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি হয়ে যাবে।

​তিন ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন

দীর্ঘ ১১ বছর পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে মোট তিনটি ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের ব্যবধানের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে, যার জন্য চলতি অর্থ বছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

​পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ব্যবধানের ৭০ শতাংশ এবং একই বছরের ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গ মূল বেতন পাবেন কর্মচারীরা। তবে ভাতা সম্পর্কিত অংশটি ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হবে।

​এছাড়া নতুন বিধিতে পদোন্নতিহীন সন্তোষজনক চাকরির আট বছর পূর্তিতে প্রথম উচ্চতর গ্রেড এবং পরবর্তী ছয় বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অতীতে একই পদে একাধিকবার টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড নেওয়া কর্মীদের সমন্বয়জনিত কিছু জটিলতা রয়েছে, যা অর্থ বিভাগ নিরসন করছে। পূর্বে একটি উচ্চতর সুবিধা পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবেন কর্মচারীরা। ২০ অক্টোবরের মধ্যে সব তথ্য নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করেই বকেয়া ও নতুন বেতনের পাওনা নিষ্পত্তি করা হবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0