কিংবদন্তি অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্সের প্রয়াণ, ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া

১৭ জুলাই ২০২৬ - ২৩:১২
প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
কিংবদন্তি অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্সের প্রয়াণ, ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া
স্যার গ্যারি সোবার্স। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই। শুক্রবার বার্বাডোজে নিজ বাসভবনে ৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই অলরাউন্ডারের প্রয়াণে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) স্যার গ্যারির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এক শোকবার্তায় তারা উল্লেখ করেছে, অসাধারণ এক ইনিংসের সমাপ্তি ঘটল এবং সোবার্স চিরকাল ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন থাকবেন। এছাড়া তার সাবেক কাউন্টি ক্লাব নটিংহ্যামশায়ারও কিংবদন্তির বিদায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।

​১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন সোবার্স। এ সময়ে ৫৭.৭৮ গড়ে ৮ হাজার ৩২ রান করার পাশাপাশি বল হাতে শিকার করেন ২৩৫টি উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটে ২৬টি সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন তিনি। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার খেলা অপরাজিত ৩৬৫ রানের ঐতিহাসিক ইনিংসটি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড হিসেবে অক্ষুণ্ন ছিল।

​মাঠে অবিশ্বাস্য বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন এই বাঁহাতি ক্রিকেটার। বাঁহাতি স্পিনের পাশাপাশি সমান দক্ষতায় করতে পারতেন পেস বোলিং, সেই সাথে ফিল্ডার হিসেবেও ছিলেন দুর্দান্ত। তার এই অলরাউন্ড নৈপুণ্যের কারণে ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ব্যাটার স্যার ডন ব্র্যাডম্যান তাকে ‘একের ভেতর পাঁচ’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

​প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে স্যার গ্যারির সংগ্রহ ২৮ হাজার ৩১৪ রান, যার মধ্যে ইংলিশ কাউন্টি দল নটিংহ্যামশায়ারের হয়েই করেছেন ৭ হাজার ৪১ রান। ১৯৬৮ সালে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে খেলার সময় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ওভারে ছয়টি ছক্কা মারার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্বাডোজের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এবং ১৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা সোবার্স ক্যারিয়ারের শুরুতে বোলার হিসেবে পরিচিত হলেও দ্রুতই বিশ্বমানের ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

​১৯৬৫ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৭০ সালে ইংল্যান্ড সফরে ‘রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ একাদশেরও অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত করে। পরবর্তীতে উইজডেনের মূল্যায়নে বিংশ শতাব্দীর সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন হিসেবে স্থান পান এই মহানায়ক।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0