বাংলাদেশিসহ প্রবাসীদের পিজিপি স্পন্সরশিপ ভিসায় স্থগিতাদেশ দিল কানাডা

১৬ জুলাই ২০২৬ - ১৯:২২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বাংলাদেশিসহ প্রবাসীদের পিজিপি স্পন্সরশিপ ভিসায় স্থগিতাদেশ দিল কানাডা
ছবি সংগৃহীত

কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে দেশটির সরকার। নিজেদের বাবা-মা এবং দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে স্থায়ীভাবে কানাডায় নিয়ে আসার জনপ্রিয় মাধ্যম ‘প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস (পিজিপি)’ স্পন্সরশিপ প্রোগ্রামে নতুন আবেদন গ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

​কানাডার অভিবাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বিভাগ ‘ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা’ (আইআরসিসি) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

​আইআরসিসি জানায়, দেশের সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সুশৃঙ্খল এবং টেকসই করার উদ্দেশ্যে এই সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশের ফলে পূর্ববর্তী আবেদনকারীদের চিন্তার কারণ নেই। ২০২৫ থেকে ২০২৭ সালের জন্য নির্ধারিত অভিবাসন পরিকল্পনার অধীনে ইতোমধ্যে জমা হওয়া আবেদনগুলোর যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম যথারীতি চলমান থাকবে। চলতি বছরে আগের আবেদনগুলো থেকে ১৫ হাজার প্রার্থীকে স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাসের অনুমোদন (পিআর) দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার।

​সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্যমতে, পিজিপি কর্মসূচির অধীনে নির্ধারিত কোটার চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বেশি হওয়ায় দীর্ঘদিনের একটি বড় জট বা ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতেই পরবর্তী নির্দেশনা জারি করার আগ পর্যন্ত নতুন আবেদন গ্রহণ সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে নতুন করে সম্ভাব্য স্পন্সরদের আবেদন করার জন্য কোনো আমন্ত্রণপত্রও পাঠানো হবে না।

​কানাডিয়ান প্রেসের একটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০২০ সালে লটারির মাধ্যমে চালু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার ৫০০টির বেশি আবেদন প্রক্রিয়াকরণের অপেক্ষায় রয়েছে। বিদ্যমান এই বিশাল সংখ্যক আবেদন পুরোপুরি নিষ্পত্তি করতে আড়াই বছরেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

চালু থাকছে সুপার ভিসা সুবিধা

নতুন করে পিজিপি আবেদন বন্ধ থাকলেও অভিবাসীদের বাবা-মা বা দাদা-দাদিদের জন্য ‘সুপার ভিসা’র দরজা খোলা রাখছে কানাডা। এই বিশেষ ভিসার আওতায় প্রবাসীদের নিকটজনরা একনাগাড়ে সর্বোচ্চ ৫ বছর কানাডায় অবস্থান করার সুবিধা পাবেন। এছাড়া ১০ বছর মেয়াদি এই মাল্টিপল ভিসার মাধ্যমে তারা একাধিকবার দেশটিতে যাতায়াত করতে পারবেন।

​সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পিজিপি স্পন্সরশিপের মাধ্যমে মোট ২৭ হাজার ৩৩০ জন স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ৩.৫ শতাংশ কম। একই সময়ে ৫৩ হাজার ৬৯৫টি সুপার ভিসা অনুমোদিত হয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২৬.৬ শতাংশ কম।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0