জীবন দেব, তবু ২৪-এর অর্জন হারাতে দেব না: ডা. শফিকুর রহমান

১৬ জুলাই ২০২৬ - ২০:২১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
জীবন দেব, তবু ২৪-এর অর্জন হারাতে দেব না: ডা. শফিকুর রহমান
ডাঃ শফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের গৌরবময় অর্জনকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জীবনের বিনিময়ে হলেও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অর্জনকে কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। অতীতে দেশের সাধারণ মানুষ, তরুণ ও শ্রমিকদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সাফল্য বারবার কিছু লুটেরা গোষ্ঠী ছিনিয়ে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বর্তমান সময়েও চব্বিশের চেতনা নস্যাৎ করার চক্রান্ত চলছে বলে সতর্ক করেন।

​বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত আইডিবি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে শহীদ আবু সাঈদসহ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়।

​ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বিগত সরকারের আমল ও বর্তমান প্রেক্ষাপটের তুলনা করে বলেন, বর্তমান সংসদ ও সরকার যে ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের ফসল, তা সর্বজনস্বীকৃত। তা সত্ত্বেও কেউ কেউ চব্বিশের গুরুত্বকে খাটো করে পূর্ববর্তী সময়কে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। জামায়াত কখনোই আগের ত্যাগকে অস্বীকার করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত দিনে জামায়াতের ১১ জন শীর্ষ নেতাসহ শত শত কর্মী প্রাণ দিয়েছেন, হাজারো মানুষ কারাবরণ ও ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছেন। তবে বাস্তব সত্য হলো, ২০২৪ সালের এই পরিবর্তন না হলে আজ তিনি নিজে কিংবা তারেক রহমান কেউই বর্তমান অবস্থানে আসতে পারতেন না।

​ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ ও রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্যই ছিল ফ্যাসিবাদের চিরতরে অবসান ঘটানো। এর জন্য দেশের পচা রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও নতুন ধারা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি ছিল। সংবিধানে গণভোটের অনুপস্থিতি এবং গণভোটের প্রশ্নগুলোর জটিলতা নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে আগে থেকেই এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছিল। দেশের ১৮ কোটি মানুষের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জাতিকে অপমান করার শামিল।

​নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও নৈতিকতা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে সবাই গণভোটের পক্ষে থাকলেও এখন ৫১ শতাংশ ভোটের দোহাই দিয়ে ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায়কে উপেক্ষা করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় সাড়ে তিন ঘণ্টার ব্ল্যাকআউটের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ইতিহাস সময়মতো সবকিছুর বিচার করবে। একই সাথে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, জামায়াত জনগণের রায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে এই অগ্রাহ্যের মিছিলের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে।

​প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের নীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের অন্য সব দলকে ভারত আমন্ত্রণ জানালেও তারা এতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। ভারতের লাল কার্ডের পরোয়া জামায়াত করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বাইরে আশ্রয়ের চিন্তা তাদের নেই এবং বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ভালোবাসাই তাদের মূল শক্তি।

​ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0