তালাকের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করার সুযোগ নেই: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

১৬ জুলাই ২০২৬ - ১৪:৩১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
তালাকের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করার সুযোগ নেই: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
ফাইল ছবি সংগৃহীত

আইনগতভাবে প্রমাণিত বা কার্যকর হয়নি এমন তালাকের অজুহাত দেখিয়ে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের দেনমোহর কিংবা ভরণপোষণের ডিক্রি বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের অধিকার সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। মা-বাবার মধ্যকার তালাক সংক্রান্ত কোনো বিরোধের ওপর সন্তানের এই অধিকার নির্ভরশীল নয়।

​বিচারপতি আবদুর রহমানের নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এই সংক্রান্ত রায়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কেবল একটি নতুন মামলা দায়েরের অজুহাতে পূর্বে দেওয়া কোনো চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা যাবে না। কোনো উপযুক্ত আদালত যদি পূর্বের ডিক্রি স্থগিত না করেন, তবে এক্সিকিউশন (জারি) আদালত তা কার্যকর করতে আইনত বাধ্য। আদালত আরও উল্লেখ করেন, যে তালাক আইনগতভাবে প্রমাণিত বা কার্যকর নয়, তা বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটায় না এবং দেনমোহর বা ভরণপোষণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।

​তাছাড়া, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির একমাত্র একচ্ছত্র এখতিয়ার পারিবারিক আদালতের। হাইকোর্ট রায়ে বলেন, সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব থেকে পিতা কেবল তালাকের মতো বিরোধের অজুহাত দেখিয়ে পার পেতে পারেন না। এক্সিকিউশন আদালতের কাজ কেবল বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা; নতুন করে তালাকের বৈধতা বিচার করার ক্ষমতা তাদের নেই।

​মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে এই মামলার বাদী-বিবাদীর বিয়ে হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক আদালতে স্ত্রী ও নাবালক কন্যার পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করা হলে স্বামী দাবি করেন তিনি আগেই তালাক দিয়েছেন। তবে আদালতে তালাকের বিষয়টি প্রমাণ করতে তিনি ব্যর্থ হন। ফলে পারিবারিক আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে স্বামী নতুন করে মামলা করে ডিক্রি স্থগিতের আবেদন জানালে অধস্তন আদালত তা খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হলে আদালত স্বামীর রুল খারিজ করে অধস্তন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং দেনমোহর ও ভরণপোষণের সব বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেন।

​আদালতে স্বামীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম। স্ত্রীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান, যাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান জুঁই ও ইফাত হাসান শাম্মি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0