প্রথমবার পর্দায় জুটি বাঁধলেন আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল
বিনোদন জগতে নতুন রসায়ন নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও ছোট পর্দার পরিচিত মুখ কেয়া পায়েল। জাহিদ প্রীতম পরিচালিত ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করছেন তারা। ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ (এমওএল) প্রকল্পের সপ্তম চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মিত হতে যাচ্ছে এটি। ছবিটির সহ-প্রযোজনায় যুক্ত রয়েছে দেশের খ্যাতিমান প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ছবিয়াল’।
দীর্ঘ বিরতির পর ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের নতুন কোনো কনটেন্টে যুক্ত হলেন আরিফিন শুভ। অন্যদিকে, এই প্রকল্পের চলচ্চিত্রে কেয়া পায়েলের এটিই প্রথম কাজ।
সম্পর্কের জটিলতা ও প্রযুক্তির প্রভাব
চলচ্চিত্রটির গল্পে সমসাময়িক জীবনের নানা টানাপোড়েন, পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক ও ইতিবাচক প্রভাবকে এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে।
নির্মাতা জাহিদ প্রীতম বলেন, “কাছাকাছি দুটি সময়ের মানুষের জীবনধারা নিয়ে এই চলচ্চিত্র। তারা নিজেদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার ও সমাজকে কীভাবে দেখে, তারই প্রতিফলন থাকবে এখানে। আশা করছি, সিনেমাটি দর্শকদের মনে নতুন এক উপলব্ধির জন্ম দেবে।”
তিনি আরও জানান, দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির অতি-ব্যবহার কীভাবে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে এবং পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করছে, তা এখানে বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এতে হিউমার, রোমান্স ও আবেগঘন মুহূর্তের চমৎকার ভারসাম্য থাকবে।
চিরচেনা রূপের বাইরে আরিফিন শুভ
চলচ্চিত্রটিতে ‘আনিস’ চরিত্রে অভিনয় করছেন আরিফিন শুভ। পর্দায় সাধারণত তাকে অ্যাকশন বা কনভেনশনাল পুরুষ চরিত্রে দেখা গেলেও এবার সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে হাজির হচ্ছেন তিনি। শুভ এই চরিত্রটিকে ‘সিগমা মেইল’ (স্বাধীনচেতা ও অন্তর্মুখী) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
চরিত্রটি প্রসঙ্গে আরিফিন শুভ বলেন, “উনিশ২০ চলচ্চিত্রের পর এই প্রকল্পের সঙ্গে আবারও কাজ করছি। এটি একটি রম-কম ঘরানার ছবি। দর্শকরা আমাকে যেভাবে দেখতে অভ্যস্ত, এখানে তার ব্যতিক্রম ঘটবে। মফস্বলের এক দায়িত্বশীল যুবকের চরিত্রে অভিনয় করছি আমি, যার পুরো পৃথিবীজুড়ে রয়েছে তার পরিবার, ছোট ভাইবোন আর প্রিয় মানুষেরা।”
অনামিকা চরিত্রে কেয়া পায়েল
গল্পের অপর প্রান্তে ‘অনামিকা’ চরিত্রে অভিনয় করছেন কেয়া পায়েল। উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা এক তরুণীর জীবনধারা এই চরিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যার ভাবনায় মিশে আছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল জগতের রঙিন স্বপ্ন।
নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কেয়া পায়েল বলেন, “কয়েকটি কারণে কাজটি নিয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। প্রথমত, সহশিল্পী হিসেবে আরিফিন শুভ ভাইকে পাচ্ছি। দ্বিতীয়ত, মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রকল্পের সঙ্গে এটি আমার প্রথম কাজ এবং তৃতীয়ত, এর চমৎকার নির্মাতা জাহিদ প্রীতম।”
নিজের চরিত্র নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “অনামিকা চরিত্রটির মধ্যে অভিনয়ের দারুণ কিছু শেড রয়েছে। দর্শক এর আগে আমাকে নানা রূপে দেখলেও, এবার একদম নতুন এক পায়েলকে আবিষ্কার করবেন।”
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা
‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি জানান, এই প্রকল্পের প্রতিটি চলচ্চিত্রেই সম্পর্কের ভিন্ন ভিন্ন স্তর ফুটিয়ে তোলা হয়, যার ধারাবাহিকতা ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ সিনেমাতেও বজায় থাকবে।
গল্পের অভিনব ভাবনার কারণেই এই প্রজেক্টের সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। তিনি বলেন, “দুটি ভিন্ন ভাবনার মানুষের মধ্যকার খুনসুটি ও মেলবন্ধনের চেষ্টা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আশা করছি, প্রধান দুই অভিনয়শিল্পীর এই ভিন্নধর্মী রসায়ন দর্শকদের ভীষণ ভালো লাগবে।”
উল্লেখ্য, আরিফিন শুভ অভিনীত ‘উনিশ২০’ মুক্তি পেয়েছিল ২০২৩ সালে। অন্যদিকে, ‘ঘুমপরী’ খ্যাত নির্মাতা জাহিদ প্রীতমের এটি দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের আওতায় এর আগে আরও ছয়টি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











