রাশিয়ায় পশ্চিমাদের তৈরি এআই চালিত ড্রোন জব্দের দাবি এফএসবির, আটক নাশকতার পরিকল্পনাকারীরা

১৪ জুলাই ২০২৬ - ০০:৪৭
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
রাশিয়ায় পশ্চিমাদের তৈরি এআই চালিত ড্রোন জব্দের দাবি এফএসবির, আটক নাশকতার পরিকল্পনাকারীরা
ছবি সংগৃহীত

রাশিয়ার অভ্যন্তরে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করার দাবি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রুশ ভূখণ্ডের গভীরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে পাঠানো পশ্চিমাদের তৈরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালিত বেশ কিছু এফপিভি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে। ইউক্রেইনের বড় আকৃতির ফিক্সড-উইং (স্থির ডানার) ড্রোন ও বেলুনের সাহায্যে এগুলোকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ফেলা হয়েছিল।

​এফএসবির তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনগুলো প্রথমে ইউক্রেইন সীমান্তবর্তী ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলে ফেলা হয়। পরবর্তীতে ইউক্রেইনীয় এজেন্টরা সাধারণ গৃহস্থালি সামগ্রী বহনের আড়ালে গোপন তলদেশযুক্ত বিশেষ ট্রেইলারে করে ড্রোনগুলো রাশিয়ার ভেতরে উরাল পর্বতমালার চেলিয়াবিনস্ক এবং দূরপ্রাচ্যের আমুর অঞ্চলে নিয়ে যায়। সেখানকার শাগোল এবং ইউক্রাইঙ্কা বিমানঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে এই নাশকতার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িতদের ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে।

​জব্দকৃত ড্রোনগুলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং সুইডেনে তৈরি বলে দাবি করেছে এফএসবি। এগুলোর প্রতিটিতে এক কেজিরও বেশি ওজনের বিস্ফোরক ছিল। এছাড়া রাশিয়ার রাডার ও সংকেত প্রতিরোধী (জ্যামিং) ব্যবস্থা এড়াতে এই ড্রোনগুলোতে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেভিগেশন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছিল।

​এই ঘটনাটি ২০২৫ সালে রাশিয়ার সামরিক বিমানঘাঁটিতে চালানো 'স্পাইডার্স ওয়েব' (মাকড়সার জাল) নামক একটি ড্রোন হামলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। সে সময় ইউক্রাইঙ্কা ঘাঁটিকাঠামোসহ প্রায় ২০টি রুশ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তৎকালীন হামলায় ড্রোনগুলোকে লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছাতে সংকোচনযোগ্য ছাদ ও কাঠের তৈরি শেডবাহী ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছিল।

​সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেইন রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল শোধনাগার এবং প্রতিরক্ষা খাত লক্ষ্য করে হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। সীমান্ত থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও এখন ড্রোন আঘাত হানছে, যার ফলে বড় বড় শোধনাগারের কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে রাশিয়া জুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গত সপ্তাহে মন্তব্য করেন যে, পশ্চিমা দেশগুলোর সরাসরি সমর্থনের কারণেই ইউক্রেইনে চালানো রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ এখন পুরোদস্তুর যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0