ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের আভাস জেলেনস্কির
ইউক্রেনের সরকার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কর্তৃক বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া এবং সরকার পুনর্গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
গত ১২ জুলাই (রবিবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো লেখেন, দেশের সরকার পরিচালনায় সম্পৃক্ত হতে পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে তিনি পুরো সরকারি দলের সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এর আগে, মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, চলমান পরিস্থিতিতে দেশের জন্য একটি নতুন ও পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভা গঠন করা আবশ্যক। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে বিশদ আলোচনার কথা জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, "পরিবর্তনের স্বার্থে মন্ত্রিপরিষদের নবায়ন জরুরি—এ বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।" তিনি ইউলিয়াকে তার দক্ষ নেতৃত্ব ও দীর্ঘদিনের ফলপ্রসূ কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো এক বছরেরও কম সময় এই পদে ছিলেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেনিস শ্মিহালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন, যিনি বর্তমানে সরকারের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। নতুন সরকারের রূপরেখা পার্লামেন্টে অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত দেনিস শ্মিহালই ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে স্ভিরিদেনকোর পরিবর্তে কে এই পদে আসছেন, সে বিষয়ে জেলেনস্কি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি এবং এই আকস্মিক রদবদলের সুনির্দিষ্ট কারণও পরিষ্কার করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া অন্য এক বিবৃতিতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট দেশের বর্তমান জরুরি কাজগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং সীমান্ত এলাকাগুলো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন খাত পরিচালনার জন্য নতুন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রিসভার যেকোনো পরিবর্তনের জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন আবশ্যক হলেও, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আইনপ্রণেতারা সাধারণত প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের পক্ষেই অবস্থান নিয়ে আসছেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











