দেশের ৭ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি: ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণহানি ৫১

১২ জুলাই ২০২৬ - ১৭:৩০
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
দেশের ৭ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি: ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণহানি ৫১
ছবি সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাতটি জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। বন্যার করাল গ্রাসে এখন পর্যন্ত ৫১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩9 জন। আজ রোববার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতির এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দেশের বন্যাকবলিত সাতটি জেলা হলো— চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা বর্তমানে প্লাবিত। দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

​চট্টগ্রামে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি

​এবারের বন্যায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। এখানকার ১৬টি উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। জেলাটিতে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার। চট্টগ্রামে পাহাড়ধস ও ঢলে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বর্তমানে জেলার ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ অবস্থান করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের মাঝে চাল, নগদ অর্থ ও খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

​কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়সহ ২৮ জনের মৃত্যু

​কক্সবাজার জেলার ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৫০৬ এবং মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭। এই জেলায় স্থানীয় অধিবাসী ও রোহিঙ্গা নাগরিক মিলে সর্বমোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জনই রোহিঙ্গা। এছাড়া ২৪ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। জেলার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ১ হাজার ৫৮০ জন অবস্থান করছেন।

​পার্বত্য জেলাগুলোর চিত্র

​পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ৭টি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলাটিতে ৮৩ হাজার ৫০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১২ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। সেখানে ৬ জনের মৃত্যু ও ২ জন আহত হয়েছেন। ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৬ হাজার ২৫০ জন। অন্যদিকে, রাঙামাটিতে ৯টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা প্লাবিত হয়ে ৩ হাজার ৫২৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলাটিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় ৩৪ হাজার ৪১৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সেখানে একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

​মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি

​সিলেট অঞ্চলের মৌলভীবাজারে ৫টি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা প্লাবিত হওয়ায় ২৬ হাজার ৫৪৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলাটিতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হবিগঞ্জের ৩টি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে, যেখানে ২৮ হাজার ১৪০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে হবিগঞ্জের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখনো কোনো মানুষ আশ্রয় নেননি।

​সরকারি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম

​দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত ৭টি জেলার জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশের ৬৪ জেলার মানবিক সহায়তার জন্য মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চালের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0