বন্যাদুর্গত ১১ জেলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, প্রস্তুত ২২ হাজার অ্যান্টিভেনম

১৩ জুলাই ২০২৬ - ১৬:০৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বন্যাদুর্গত ১১ জেলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, প্রস্তুত ২২ হাজার অ্যান্টিভেনম
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি সংগৃহীত

দেশের বন্যাকবলিত ১১টি জেলায় স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে বন্যা উপদ্রুত প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্তদের জরুরি চিকিৎসার জন্য মাঠপর্যায়ে দ্রুত অ্যান্টিভেনম পাঠানোর পাশাপাশি এ পর্যন্ত ৯৫ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তবে উপদ্রুত এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো কলেরা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি।

​সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বন্যা পরিস্থিতিতে গৃহীত এসব স্বাস্থ্য কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। মন্ত্রী জানান, বন্যা মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, নবজাতক এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

​অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার এবং কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগারে (সিএমএসডি) আরও এক হাজারসহ মোট ২২ হাজার ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনাম মজুত রয়েছে। এছাড়া চিকিৎসাসেবায় মজুত রাখা হয়েছে প্রায় ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার প্যাকেট খাবার স্যালাইন (ওআরএস), প্রায় চার লাখ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন এবং ৩৬ লাখের বেশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট।

সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও জরুরি যোগাযোগ

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ নম্বরে অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ০১৭৫৯-১১৪৪৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ এবং অসুস্থ হলে দ্রুত নিকটস্থ মেডিকেল টিমের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংক্রামক রোগ পরিস্থিতি

বন্যার পাশাপাশি দেশের সার্বিক সংক্রামক রোগ পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩২৩ জনে, যার মধ্যে মারা গেছেন ২৫ জন। গত বছরের একই সময়ে এই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫৫ জন।

​অন্যদিকে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পরীক্ষা শেষে ১৩ হাজার ৫০০ জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯০ হাজার ৬০৫ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গ

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংস্কার কাজগুলো শেষ হলে হাসপাতালটি পুনরায় পরিদর্শন করে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0