বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ, আটলান্টায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা

১৫ জুলাই ২০২৬ - ১০:৩৮
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ, আটলান্টায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশি বা নব্বইয়ের দশকের সেই কুখ্যাত হুলিগানিজম ও সহিংসতার রূপ এবার দেখা যায়নি। তবে সেমিফাইনালের মেগা ম্যাচে যখন মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা, তখন আর কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহর কর্তৃপক্ষ। ম্যাচটিকে ঘিরে আটলান্টা পুলিশ বিভাগ (এপিডি) পুরো শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

​মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি চলতি বিশ্বকাপে আটলান্টার শেষ আয়োজন। দর্শকদের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। আটলান্টা পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে নিয়মিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও সমন্বয় করা হয়ে থাকে, যেন সবাই নিরাপদ পরিবেশে খেলা উপভোগ করতে পারেন।

​দুই পরাশক্তির দীর্ঘদিনের ফুটবলীয় বৈরিতার কারণে মাঠের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য। আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রো মন্তেওলিভা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বিশ্বকাপে এবারই প্রথম দুই দলের সমর্থকদের জন্য স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রে পৃথক গেট ব্যবহার করা হবে। তবে ফিফার টিকিট বিক্রির নীতিমালার কারণে গ্যালারির ভেতরে সমর্থকদের পুরোপুরি আলাদা জোনে বসানো সম্ভব হচ্ছে না। এপিডি আরও জানিয়েছে, তারা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও অন্যান্য মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। তবে কৌশলগত কারণে নিরাপত্তা পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট বা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ঐতিহাসিক বৈরিতা ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা

ফুটবল মাঠে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস বেশ পুরনো। বিশ্বকাপে এর আগে দল দুটি পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে, যার বেশ কয়েকটি ম্যাচ বিতর্কিত ঘটনার জন্য ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে। বিশেষ করে ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এই বৈরিতা আরও তীব্র হয়, যে সংঘাত প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল ৯০৭ জনের। এই সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব সম্পর্কিত রাজনৈতিক বার্তা, উসকানিমূলক বা বর্ণবাদী স্লোগান সংবলিত কোনো পতাকা, ব্যানার ও পোস্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ইংলিশ সমর্থকদের প্রতি বার্তা

এক সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের 'হুলিগান' হিসেবে একচেটিয়া বদনাম থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ইংল্যান্ডের সমর্থকদের শীর্ষ সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলতি টুর্নামেন্টে উত্তর আমেরিকাজুড়ে ইংলিশ সমর্থকেরা ইতিবাচক আচরণ করে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। পুরোনো নেতিবাচক ভাবমূর্তি এখন আর তাদের সঙ্গে যায় না। সংগঠনটি সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রেখে দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0