সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

১৪ জুলাই ২০২৬ - ১৫:৪০
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে জিম্মি করে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এতে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপরাধে সংশ্লিষ্টতার পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় বাকি চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

​মঙ্গলবার (১৪ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার বহুল আলোচিত এই মামলার রায় প্রকাশ করেন।

​আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামিরা হলেন— শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক এবং অর্জুন লস্কর। অন্যদিকে, আদালত কর্তৃক খালাসপ্রাপ্ত চারজন হলেন— আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল এবং মাহফুজুর রহমান। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত আটজনই আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

​সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধান আসামির ফাঁসি ও অন্য তিনজনের যাবজ্জীবনের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

​মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে স্বামীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশ মূল অভিযুক্তসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী সময়ে ডিএনএ পরীক্ষায় ছয়জন আসামির সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পাওয়া যায়।

​এরপর ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযুক্তরা সবাই তৎকালীন সময়কালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। গত বছর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর ভুক্তভোগী নারী, তাঁর স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞসহ মোট ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার প্রায় পৌনে ছয় বছর পর আজ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করা হলো।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0