হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা: ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌঅবরোধ ও তীব্র বিমান হামলা, সমঝোতা বাতিলের ঘোষণা তেহরানের

১৫ জুলাই ২০২৬ - ১০:২৭
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা: ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌঅবরোধ ও তীব্র বিমান হামলা, সমঝোতা বাতিলের ঘোষণা তেহরানের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের উপকূলীয় এলাকা ও বন্দরগুলোতে আবারও নৌঅবরোধ শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরে বিমান হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তবে এই সামরিক অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানো হবে। অন্যদিকে, তেহরানও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা ওয়াশিংটনের সাথে স্বাক্ষরিত পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারক (মউ) থেকে সম্পূর্ণরূপে বেরিয়ে আসছে। দুই দেশের এমন অনড় অবস্থানে সমগ্র পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

​ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত মাসে আমেরিকার সাথে যে চুক্তি হয়েছিল, তার শর্ত মানতে তেহরান আর বাধ্য নয়। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র কেবল দফায় দফায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনই করেনি, বরং ইরানের বন্দরগুলোতে নৌঅবরোধ আরোপের মাধ্যমে এই শান্তিচুক্তিকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়েছে।

​সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংকটের সূত্রপাত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলার পেছনে ইরান জড়িত। গত রোববার সকালে ওমান উপকূলের কাছে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয়, যেটিতে ১১ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এরপর গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওই জাহাজে থাকা ভারতীয় নাবিকদের মধ্যে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে মার্কিন প্রশাসন।

​বুধবার ভোরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দক্ষিণ ইরানে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে উপর্যুপরি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই প্রতিরোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে।

​এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পরবর্তী সামরিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জানান, ইরান আলোচনা বর্জন করলে আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং সবশেষে তাদের মূল জ্বালানি ভাণ্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।

​এর আগে ট্রাম্প নিজেকে 'হরমুজ প্রণালীর অভিভাবক' হিসেবে দাবি করে এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী জাহাজের সুরক্ষার জন্য ২০ শতাংশ ট্রাফিক ফি বা শুল্ক আদায়ের প্রস্তাব করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তিনি জানান, শুল্ক আদায়ের পরিবর্তে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেবে মার্কিন প্রশাসন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0