বিদেশি কোম্পানির ঋণ সুবিধা সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

১৫ জুলাই ২০২৬ - ১৬:৪৫
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বিদেশি কোম্পানির ঋণ সুবিধা সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

দেশে কার্যরত সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদেশি ঋণ গ্রহণের নীতিমালা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের প্যারেন্ট (মূল) কোম্পানি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান (অ্যাফিলিয়েট) এবং শেয়ারধারীদের কাছ থেকে আরও সহজ শর্তে বিদেশি ঋণ নিতে পারবে।

​বুধবার (১৫ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন ব্যয় কমবে এবং দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

​কোন কোন প্রতিষ্ঠান সুবিধা পাবে

​কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত অঞ্চল যেমন—রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) এবং হাইটেক পার্কের শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবে। একই সাথে, এসব জোনের বাইরে অবস্থিত উৎপাদন ও সেবা খাতের শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানও এই নতুন নীতিমালার আওতায় বৈদেশিক ঋণ নিতে পারবে।

​স্বল্পমেয়াদি ঋণের শর্তাবলি

​বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি মূলধনের প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই এক বছরের কম মেয়াদি সুদমুক্ত বিদেশি ঋণ নিতে পারবে। এছাড়া কাঁচামাল কেনাসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ অল-ইন-কস্ট হারে সুদযুক্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ থাকবে।

​এই ঋণগুলো নির্ধারিত মেয়াদ শেষে এককালীন পরিশোধ করতে হবে। তবে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত ঋণের মেয়াদ নবায়ন (রোলওভার) করা যাবে।

​এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি, নির্মাণকাজ বা মূলধনি ব্যয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নেওয়া যাবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পর্যন্ত সুদযুক্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

​অন্যদিকে, পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে বার্ষিক সুদের হার সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ হতে পারবে।

​নতুন নির্দেশনায় বকেয়া বৈদেশিক ঋণকে শেয়ার বা ইকুইটিতে (মূলধনে) রূপান্তরের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনে তাদের ঋণকে শেয়ার মূলধনে রূপান্তর করে কোম্পানির মূলধন কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে পারবেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0