মানব পাচার ও চোরাচালান দমনে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

১৫ জুলাই ২০২৬ - ১৪:৫০
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মানব পাচার ও চোরাচালান দমনে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন । ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের তৎপরতা রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, অপরাধীদের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সাথে মোকাবিলা করতে দেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।

​আজ সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক এক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় দেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা।

​স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। এছাড়া বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অপরাধ দমনে শক্তিশালী আইন, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক বিচারব্যবস্থার প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের একটি বড় মাইলফলক। তবে এই আইনের সফল বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

​নতুন আইনের নানা দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এতে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথকভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এটি অভিবাসী চোরাচালান দমনে সমন্বিত আইনি কাঠামো তৈরি, তদন্ত ও বিচারিক ক্ষমতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বৈশ্বিক সহযোগিতার পথ প্রসারিত করেছে।

​অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইনের প্রেক্ষাপট ও মূল বিধানসমূহ উপস্থাপন করেন। এরপর আইনটির অগ্রাধিকার ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অংশ নেন পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, সিআইডি, এসবি, এনএসআই, বিচার বিভাগ, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0