ভাষণ প্রচার না করায় এবিসি, এনবিসি ও সিএনএন-এর লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিনটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনে তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচন নিরাপত্তা বিষয়ে প্রেসিডেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাইম-টাইম ভাষণ মূল চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার না করায় গণমাধ্যমগুলোর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি, এনবিসি এবং সিএনএন তাদের মূল টেলিভিশন চ্যানেলে বৃহস্পতিবার রাতের এই ভাষণটি প্রচার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র চার মাস আগে দেওয়া ২৫ মিনিটের এই ভাষণে ট্রাম্প মূলত দেশের নির্বাচন-নিরাপত্তা ও বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরেন। ভাষণ চলাকালেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপে ভুয়া সংবাদমাধ্যম এবিসি ও এনবিসি জানিয়েছে যে তারা আমার এই ভাষণটি প্রচার করবে না। তারা এবং সংবাদমাধ্যমের অন্য প্রতিনিধিরা একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। এই ধরনের প্রতারণার শাস্তি হিসেবে তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।”
তবে গণমাধ্যম ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী যেকোনো টেলিভিশন নেটওয়ার্কের নিজস্ব সম্পাদকীয় স্বাধীনতা রয়েছে এবং তারা কী সম্প্রচার করবে তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারে। অবশ্য অতীতে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের এমন ভাষণ প্রায় সব মূলধারার গণমাধ্যমই সরাসরি প্রচার করে এসেছে।
মূল চ্যানেলে নয়, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার
বৃহস্পতিবার ভাষণটি মূল টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি দেখানো না হলেও বিকল্প মাধ্যমে তা প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। এবিসি নিউজের একজন মুখপাত্র জানান, তাদের মূল টিভি চ্যানেলে না দিলেও ভাষণটি ‘এবিসি নিউজ লাইভ স্ট্রিমিং’ প্ল্যাটফর্ম এবং ‘এবিসি নিউজ রেডিও’তে সম্প্রচার করা হয়েছে। অন্যদিকে এনবিসি নিউজও তাদের মূল চ্যানেল এড়িয়ে বিনামূল্যে দেখার উপযোগী স্ট্রিমিং সেবা ‘এনবিসি নিউজ নাও’-তে এটি প্রচার করে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে এনবিসি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
একইভাবে সিএনএন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা সরাসরি মূল ক্যাবল চ্যানেলে ভাষণটি না দেখিয়ে লাইভ নিউজ মনিটর করেছে। পাশাপাশি তাদের ওয়েবসাইট এবং সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক স্ট্রিমিং সেবা ‘সিএনএন অল অ্যাক্সেস’-এ এটি সরাসরি দেখার সুযোগ রাখা হয়েছিল। সাধারণত এই টেলিভিশনগুলোর প্রথাগত মূল ক্যাবল বা স্যাটেলাইট চ্যানেলের তুলনায় ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে দর্শকের সংখ্যা অনেক কম থাকে।
ভাষণে নির্বাচনের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে বেশ কিছু ডিক্লাসিফাইড বা অবমুক্ত করা গোয়েন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করেন, যা তার দাবি অনুযায়ী ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের প্রমাণ দেয়। এর মাধ্যমে তিনি বিগত ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে তার দীর্ঘদিনের অভিযোগের পুনরায় অবতারণা করেন। যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২০ সালের নির্বাচনে ফল বদলে দেওয়ার মতো চীনের কোনো হস্তক্ষেপের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন ট্রাম্প।
ভাষণ শুরুর আগে হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়াও ইরান পরিস্থিতি ও দেশের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলবেন। তাই মার্কিন নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার স্বার্থে এটি সরাসরি সম্প্রচার করা উচিত ছিল। তবে বাস্তবে ভাষণে ট্রাম্প ইরান ও অর্থনীতি নিয়ে সংক্ষেপে কিছু বললেও বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়েই ছিল নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবি।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











