নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে
প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিলো জার্মান।
গত দু’বার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে। এ বারও তারা ছিটকে গেল রাউন্ড অফ ৩২ থেকে। আর
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এ জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দল প্যারাগুয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল রেখে খেলতে থাকে জার্মানি। ভালো খেললেও উল্টো গোল খেয়ে যায় জার্মানি। ভাল খেলেও গোল খাওয়ার এই রোগ তাদের নতুন নয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফুটবল বিশেষজ্ঞদের এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সেই আশঙ্কাই যে সঠিক ছিল, তা গ্রুপ পর্বেই প্রমাণ করে দিয়েছিল ইকুয়েডর।
আর দক্ষিণ আমেরিকার আর এক দেশ প্যারাগুয়ে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে দিল চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। জোড়া শট আটকে প্যারাগুয়ের জয়ের নায়ক অরল্যান্ডো গিল।
ম্যাচের শুরু থেকে দাপটের সাথে খেলছিল জার্মান। ফেলিক্স মেচা, কাই হাভার্ৎজ়েরা একের পর আক্রমণ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ছ’গজের বক্সের মধ্যে তাঁদের জায়গা দিচ্ছিলেন না প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারেরা। জার্মানেরা গোলমুখী শট নেওয়ার চেষ্টা করলেই ব্লক করে দিচ্ছিলেন তাঁরা। তাঁদের বাধার মুখে প্রথম ৩০ মিনিটে জার্মানি গোল লক্ষ করে মাত্র দু’টি শট নিতে পেরেছিল । প্যারাগুয়ে ডিফেন্স করতে করতে হঠাৎই প্রতি আক্রমণে উঠছিল। তাতেই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল জার্মান রক্ষণে।
ম্যাচের ৪২ মিনিটে প্যারাগুয়ে এগিয়ে যায়। কর্ণার থেকে দ্রুত পরিকল্পিত আক্রমণ তৈরি করে প্যারাগুয়ে। বক্সের মধ্যে প্রায় অরক্ষিত ছিলেন হুলিয়ো এনসিসো। মাতিয়াস গালারজ়ার ভাসিয়ে দেওয়া বলে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন তিনি। তাঁর ড্রপ হেড বুঝতে পারেননি নয়ারও। ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। ম্যাচার ৫৪ মিনিটে ১-১ গোলে সমতা ফেরায় জার্মানি। ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজ়ের সেন্টারে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন হাভার্ৎজ়। ৬৯ মিনিটে প্যারাগুয়ের গুস্তাভো গোমেজ়ের হেড একটুর জন্য বাইরে চলে যায়। ৭৭ মিনিটে হাভার্ৎজ়ের গোল করার প্রচেষ্টা রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল। নির্ধারিত সময়ের শেষ কয়েক মিনিট চাপ বাড়িয়েও কাজের কাজ করতে পারেননি জার্মানেরা। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অকিরিক্ত সময়ের ১২০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ । ফলে খেলা গড়ায় ট্রাইবেকারে।
টাইব্রেকারে শুরুতেই কাই হাভার্টজের শট ফিরিয়ে দিয়ে জার্মানিকে চাপে ফেলে দেন গিল। প্রথম পাঁচ শটে দুই দলই ৩-৩ সমতায় ছিল। সাডেন ডেথে জোনাথান তাহের পেনাল্টি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সুযোগ পেয়ে যায় প্যারাগুয়ে। পরের শটে হোসে কানালে গোল করে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে দলকে রাউন্ড অব ১৬-এ তুলে নেন।
২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট জিতে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল প্যারাগুয়ে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











