সালাহউদ্দিন আহমদকে ‘আয়নাঘরে’ রেখে ভারতে ফেলে আসা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

০১ আগস্ট ২০২৬ - ১৭:০৫
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সালাহউদ্দিন আহমদকে ‘আয়নাঘরে’ রেখে ভারতে ফেলে আসা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ । ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা তথাকথিত ‘আয়নাঘরে’ রাখা হয়েছিল বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। সেখান থেকেই পরবর্তীতে তাকে ভারতের সীমানায় নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

​শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকার উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত গোপন টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্যের কথা জানান তিনি।

​পরিদর্শন শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষের কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও সাজেদুল ইসলাম সুমন। বর্তমানে তারা কে বা কারা কোথায় কী অবস্থায় আছেন, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

​২৯টি রুমের রহস্য ও প্রাথমিক তদন্ত

​প্রসিকিউটর জানান, বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, সাক্ষ্য ও প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে র‍্যাব-১-এর গোপন সেলের কোনো একটি কক্ষেই বন্দি রাখা হয়েছিল। পরে সেখান থেকে স্থানান্তরিত করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সেলে মোট ২৯টি রুম পাওয়া গেছে। এতগুলো গোপন কক্ষ বানানোর যৌক্তিকতা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অভিযুক্তদের জবাবদিহি করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের বর্ণনামতে ভুক্তভোগী ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশিম আরমানের নির্দেশিত নির্দিষ্ট কক্ষটিও তারা টিএফআই সেলে প্রত্যক্ষ করেছেন।

​পরিদর্শনে যারা উপস্থিত ছিলেন:
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউশন টিমের সদস্যবৃন্দ। এছাড়া গুম কমিশনের প্রতিনিধি নুর খান লিটন, ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিনিধি সানজিদা ইসলাম তুলি এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।


​উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে র‍্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের একটি আবেদন জমা দেওয়া হলে ট্রাইব্যুনাল-১ তা মঞ্জুর করেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বেলা ১১টার দিকে এই স্থানটি যৌথভাবে পরিদর্শন করা হয়।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0