ধর্মকে পুঁজি করে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক: মির্জা ফখরুল

৩১ জুলাই ২০২৬ - ১৯:০২
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ধর্মকে পুঁজি করে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক: মির্জা ফখরুল
ছবি সংগৃহীত

দেশে ধর্মের দোহাই দিয়ে যেকোনো ধরনের বিভাজন তৈরির চেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট জানান, ধর্মকে পুঁজি করে কেউ যাতে সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার কঠোর নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

​শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শিরোনামে এক মতবিনিময়সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, হাজার বছর ধরে এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বাস করে আসছে। ফলে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে পার্থক্য গড়ে তোলার কোনো অবকাশ নেই। সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা এই দেশেরই সন্তান ও নাগরিক; তাই কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

​মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল সবার মানসম্মান, মৌলিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াই। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই একটি গণতান্ত্রিক, উদার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া হবে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে নাগরিক পরিচয়ই রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

​একশ্রেণির অসাধু চক্র সামাজিক মেলবন্ধন বিনষ্টের চেষ্টা করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সরকার সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মন্দির ও উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তায় পদক্ষেপ নিয়েছে। দুর্গাপূজা ও রথযাত্রার মতো উৎসবে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

​যেকোনো যৌক্তিক দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে আশ্বস্ত করে তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

​সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0