সমাজ রূপান্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশার আলো দেখাচ্ছেন: মির্জা ফখরুল

৩০ জুলাই ২০২৬ - ১৫:২৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সমাজ রূপান্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশার আলো দেখাচ্ছেন: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: বাসস থেকে সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজ পরিবর্তনের নতুন সম্ভাবনা ও আশা জাগিয়ে তুলছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরul ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, একটি বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই নাগরিকদের আচরণগত ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচনা করছেন।

​বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) ডিএফপি অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত স্মারক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার চর্চা করছেন এবং সিটি করপোরেশনগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন এক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। তবে মানুষের চিন্তাভাবনা ও মানসিকতায় মৌলিক পরিবর্তন না এলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থমকে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

​বক্তব্যে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের যে মৌলিক আকাঙ্ক্ষা ছিল, গত পাঁচ মাসে তার দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। কেবল প্রধানমন্ত্রী একাই দেশ ও সমাজ পরিবর্তনের চেতনায় অবিচল রয়েছেন। সাবেক স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু ব্যক্তি নিজেদের রূপ বদলে নতুন ধারার ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই ধরনের অপসংস্কৃতি দূর করতেই প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন।

​ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো অজস্র বিপ্লবীর প্রাণদানের ইতিহাস থাকলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তন হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে বিপুল প্রাণহানির মাধ্যমে স্বৈরাচারী শক্তিকে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছে।

​তিনি তরুণদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, যে তারুণ্যের প্রত্যাশায় দেশ তাকিয়ে ছিল, চব্বিশের আন্দোলনে সেই তরুণরাই জীবন বাজি রেখে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। কিন্তু আমরা যদি আবার পুরনো ও দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্কৃতিতে ফিরে যাই, তবে হাজারো শহীদের রক্ত বৃথা যাবে। জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ ও চেতনাকে দৈনন্দিন জীবনে ধারণ করতে হবে।

​বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াই দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণার পর সেনাসদস্যরা তাঁর কাছে পৌঁছালে তিনি নির্দ্বিধায় অধিনায়কের নির্দেশ মেনে নেওয়ার কথা বলেছিলেন এবং পরবর্তীতে বন্দিত্ব স্বীকার করেছিলেন। জীবনভর সংগ্রাম করে যাওয়া এই নেত্রী দেশত্যাগী স্বৈরাচারের পতনের পর অসুস্থ অবস্থায়ও প্রতিশোধমুক্ত ও শান্তিময় দেশ গড়ার বার্তা দিয়েছিলেন।

​তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও পিএসসি সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0