মানবপাচার ও সাইবার অপরাধ রোধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৩০ জুলাই ২০২৬ - ১৫:০৯
প্রকাশিত: ২ মাস আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মানবপাচার ও সাইবার অপরাধ রোধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: বাসস থেকে সংগৃহীত

মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে সরকার। প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সক্রিয় হওয়া আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র ও অনলাইন স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বহাল রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ।

​বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস স্মরণে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তবে তিনি এ কথা বলেন। 'ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম: এন্ডিং হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ফর ফোর্সড ক্রিমিন্যালিটি' শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার যৌথ আয়োজক ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং জাতিসংঘ অভিবাসন নেটওয়ার্কের কাউন্টার ট্রাফিকিং টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ।

​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানবপাচারের ধরন এখন সময়ের সঙ্গে জটিল ও পরিবর্তিত হচ্ছে। অপরাধীরা এখন চিরাচরিত মাধ্যমের বাইরে গিয়ে ইন্টারনেটের নানা প্ল্যাটফর্ম, ভুয়া অনলাইন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঢাল বানিয়ে তরুণ ও চাকরিপ্রার্থীদের ফাঁদে ফেলছে। বিদেশের লোভনীয় চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের বিদেশে পাচার করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে তাদের সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে জিম্মি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হচ্ছে।

​তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার ঠেকাতে শুধু গতানুগতিক পুলিশি ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রযুক্তি ও আর্থিক খাত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

​আইন সংস্কার ও প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার 'মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এতে সাইবার স্ক্যামিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রলোভনের মাধ্যমে অপরাধে বাধ্য করার মতো আধুনিক অপরাধগুলোকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে 'মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭' যুগোপযোগী করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হচ্ছে, যেখানে ভুক্তভোগীর সুরক্ষা ও অপরাধীদের কঠোর বিচারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

​ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার, আইনগত ও সামাজিক সহায়তার জন্য 'ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম)' জোরদার করার পাশাপাশি মামলার সঠিক নজরদারিতে একটি 'ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম' তৈরির কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

​স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সংলাপে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বোন্ডেসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি ও বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0