বম্বে সুইটস ও বাঘাবাড়ির ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের একাধিক মসলা ও বাঘাবাড়ির ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে দেওয়া লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভোক্তাদের এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিএসটিআই।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিএসটিআই বাজার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চালায়। এতে অধিকাংশ পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলার নমুনা অকৃতকার্য হয়।
ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাঘাবাড়ির ‘ঘি’-তে মিল্ক ফ্যাট বা প্রকৃত ঘির উপাদান নেই। পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে তা বাজারজাত করা হচ্ছিল। অন্যদিকে বম্বে সুইটসের বেশ কিছু মসলায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ভস্ম (টোটাল অ্যাশ) ও লবণের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং- ১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং- ১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং- ২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ)।
একইভাবে নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্নমানের হওয়ায় বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ পাওয়া ঘি ও বাটার অয়েল ব্র্যান্ডগুলো হলো—বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টসের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল। পরীক্ষায় এগুলোর রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।
এ প্রসঙ্গে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক জানান, জাতীয় মান অনুসরণ করে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নকল ও ভেজাল রুখতে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে ক্রেতাদের পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ ও উপাদান যাচাইয়ের আহ্বান জানান তিনি। পণ্য সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম বা অভিযোগ জানাতে বিএসটিআইয়ের হটলাইন ১৬১১৯ নম্বরে বা [email protected] ই-মেইলে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











