গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকবে, সমালোচনা গ্রহণে সরকার প্রস্তুত: তথ্যমন্ত্রী

২৫ আগস্ট ২০২৬ - ১৬:০২
প্রকাশিত: ২ মাস আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকবে, সমালোচনা গ্রহণে সরকার প্রস্তুত: তথ্যমন্ত্রী
সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবি: সংগৃহীত

সরকারের সমালোচনা সহ্য করা এবং তা গ্রহণের মানসিকতাই একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য বড় পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা কিংবা সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা বর্তমান সরকারের নীতি নয়। দেশের নাগরিক ও গণমাধ্যমের সরকারের বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে এবং এই পরিবেশ অব্যাহত থাকবে।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

​বিটিভি ও সংসদ টিভিতে সব দলের স্থান

তথ্যমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও সংসদ টেলিভিশনে কেবল সরকারদলীয় মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের বক্তব্য নয়, বরং জাতীয় সংসদের বিরোধী দল এবং সংসদের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যও আনুপাতিক হারে প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা

বিগত ১৭ বছর এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের গণমাধ্যম সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, গণতন্ত্র কেবল কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার বিষয় নয়, এটি মূলত মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। বিগত ১৭ বছরে সমালোচনা মেনে নেওয়ার মানসিকতার বড় অভাব ছিল। তখন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, সরকার যেহেতু কোনো টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছে, তাই তাকে সরকারের পক্ষে কথা বলতে হবে।

​বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, গত ছয় মাসে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা বা কারও মুখ বন্ধ করা হবে না।

​বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা

গণমাধ্যমকে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের অন্যতম মাধ্যম উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের এই পুনর্গঠনকালে সরকার ও সংবাদমাধ্যম—উভয়কেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিগ্রস্ত থাকায় বর্তমানে প্রশাসন একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।

​অপরাধবিষয়ক সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন ও ৩৬ হাজার ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে প্রতিদিন বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধ ঘটা স্বাভাবিক। তবে সব ঘটনাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা অনুচিত, যাতে মনে হয় গোটা দেশ অচল হয়ে পড়েছে।

​বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারের অবস্থান

অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানে গণমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। গত ছয় মাসে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা সংবাদ বন্ধে ফোন করেছে কি না, কিংবা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে কি না—তা মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারের ইতিবাচক কাজগুলো সংবাদে তুলে ধরার অনুরোধ করেন।

​সবশেষে তথ্যমন্ত্রী পার্থ স্মরণ করিয়ে দেন, সরকার ও রাষ্ট্র দুটি আলাদা বিষয়। সরকারের সমালোচনা করা গেলেও রাষ্ট্রবিরোধী বা দেশের ক্ষতি হয়—এমন প্রচার থেকে গণমাধ্যমকে বিরত থাকতে হবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0