হাম নিয়ন্ত্রণে আরও ২-৩ মাস সময় লাগবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

১৯ আগস্ট ২০২৬ - ১৬:৪৯
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হাম নিয়ন্ত্রণে আরও ২-৩ মাস সময় লাগবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি জানান, সব ব্যবস্থা নেওয়া হলেও হুট করে আগামী সপ্তাহেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমন আশ্বাস দেওয়া সম্ভব নয় এবং কোনো দায়িত্বশীল চিকিৎসক বা বিজ্ঞানীও এমন আশ্বাস দেবেন না।

​বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম বিষয়ক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ ও গবেষণা অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। একবার এটি ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের সুরক্ষায় কেবল শয্যা, আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর বাড়ানোই মূল সমাধান নয়; বরং প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কার্যকর প্রতিরোধের জন্য এখনো টিকার কোনো বিকল্প নেই।

​টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইমিউনাইজেশন প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া সাময়িক ঘাটতির কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে টিকাদানের কভারেজ বাড়িয়ে 'হার্ড ইমিউনিটি' অর্জনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। সময়মতো টিকা সরবরাহ না পাওয়া এবং ২০২৪ সালের নির্ধারিত টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়াকে বর্তমান প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

​জনবলের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে ডা. এম এ মুহিত জানান, টিকাদান কার্যক্রমের জন্য ৪০ হাজার মাঠকর্মীর প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৫ হাজার, যা মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ কম। তবে সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন এবং সম্প্রতি এক মাসের মধ্যে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি বড় অর্জন।

​প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোভিডের মতো বৈশ্বিক মহামারির অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে সংক্রামক ব্যাধি ও মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করা এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রধান অগ্রাধিকার। এ জন্য দেশে চিকিৎসা গবেষণার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরিচালিত হাম বিষয়ক গবেষণা এবং গবেষকদের অনুদান প্রদান কার্যক্রমকে তিনি সাধুবাদ জানান।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0