জেল পালানো দুই জঙ্গিসহ ৬৯০ বন্দি এখনও অধরা: কারা মহাপরিদর্শক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গিসহ মোট ৬৯০ জন বন্দি এখনো পলাতক রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পুরান ঢাকায় কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশের কারাগারগুলো থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৭ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নরসিংদী কারাগার থেকেই পালিয়েছিলেন ৮২৬ জন, যাদের মধ্যে ১৬৬ জনের কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
কারাগারে বন্দিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কাউকে কোনো বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। দেশে বর্তমানে মোট ৭৫টি কারাগার রয়েছে, যেখানে খাবারের মান ও পরিমাণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে এর মধ্যে ২১টি কারাগার সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, ৬০টি জেলা ও ১৫টি সেন্ট্রাল কারাগারের মোট ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার হলেও বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৯৮ হাজার, যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি।
কারাবন্দি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মোবাইল ব্যবহার করার বিষয়ে তিনি বলেন, শতভাগ নিশ্চয়তা না দেওয়া গেলেও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। গত এক বছরে বন্দিদের কাছ থেকে তিন হাজারের বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং এই প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসছে।
কারাগারে মারা যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের স্বজনদের নির্যাতনের অভিযোগ নাকচ করে তিনি জানান, চিকিৎসায় কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি নেই। তবে কারাগারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫ সালে ১৮৭ জন এবং চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১২২ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া বর্তমানে ১২২ জন বন্দি বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কারাগারে মাদক ও দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। কারা মহাপরিদর্শক জানান, মাদক ও অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর দায়ে গত দুই বছরে ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর ও ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ছোটখাটো অপরাধে ৩০৩ জনকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে। অপরাধে জড়িত কারারক্ষীদের ফৌজদারি মামলা দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ জেল (BD Jail)-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কাস্টডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস বাংলাদেশ’ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











