সংসদের বাইরে সংঘাতের রাজনীতি না করে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

০৩ আগস্ট ২০২৬ - ১৫:৫১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সংসদের বাইরে সংঘাতের রাজনীতি না করে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
ছবি সংগৃহীত

বর্তমান বিরোধী দলের রাজনৈতিক বক্তব্য ও ভাষার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে বিরোধী দলকে রাজপথে সংঘাতের দিকে না গিয়ে জাতীয় সংসদের ভেতরেই সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

​সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে।

​স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সেই পথ প্রস্তুত করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় জুলাই সনদ প্রণয়ন সম্ভব হয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি অনাগ্রহী—এমন প্রচারণাকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি কোনোভাবেই সংস্কারের বিরোধী নয়, বরং সবসময় প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষেই ছিল।

​গণভোটে উত্থাপিত চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির সম্মতি ছিল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের কিছু বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়া অন্তর্ভুক্ত করায় আপত্তি তোলা হয়েছিল। তবে সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে অযথা শব্দগত বিতর্ক তৈরি করা সঠিক নয়। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জুলাই ঘোষণার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে এবং জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে একটি কমিটিও গঠিত হয়েছে।

​গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। পাশাপাশি বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন তিনি। সরকারের মাত্র পাঁচ মাসের মেয়াদে সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে ধৈর্য ও সহযোগিতার আহ্বান জানান মন্ত্রী। একইসঙ্গে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখভালের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

​ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0