চট্টগ্রামে অনলাইন প্রতারণায় ৬৩ বিদেশি দুই দিনের রিমান্ডে

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৩:৫৪
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
চট্টগ্রামে অনলাইন প্রতারণায় ৬৩ বিদেশি দুই দিনের রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ জন বিদেশি নাগরিকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন।

​সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিসি) আসামিদের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষযটি নিশ্চিত করে কোর্ট পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব কান্তি দে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের আবেদনের বিপরীতে আদালত দুই দিনের রিমান্ড অনুমোদন করেছেন।

​কোকেন জব্দ ও অপরাধের সূত্রপাত

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে। চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ খুলশীর ২ নম্বর সড়কের বিশ্রাম ভবনের নিচতলায় অবস্থিত স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের কার্যালয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, এলআইসি শাখা ও জেলা পুলিশের যৌথ তল্লাশিতে পার্সেলের দুটি পলিব্যাগ থেকে ১১৮ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

​এ ঘটনায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের রিয়াদুল আহম্মেদ ও ঢাকার দক্ষিণখানের মো. আলমগীরকে আসামি করে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকা থেকে এস এম মহসিন নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

​আটতলা ভবনে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র

কোকেন উদ্ধারের পর প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে তদন্তে নামেন গোয়েন্দারা। তদন্তের একপর্যায়ে খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনে সন্দেহজনক সাইবার কর্মকাণ্ডের অস্তিত্ব পায় এলআইসি শাখা। টানা পাঁচ দিন গোপন নজরদারির পর পুলিশ, সিটিসি, র‍্যাবসহ বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ভবনটিতে সমন্বিত অভিযান চালান।

​অভিযানে ভবনের প্রতিটি তলায় স্থাপিত সার্ভার স্টেশন এবং ডিজিটাল প্রতারণায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ আধুনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়। এ সময় বৈধ পাসপোর্ট ছাড়াই অবস্থান করা ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক প্রক্রিয়ার পর তাদের সাইবার সুরক্ষা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার শুনানি শেষে তাদের রিমান্ডের আদেশ দেন বিচারক।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0