মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: রিপাবলিকানদের পরাজয় কি ট্রাম্পকে 'লেম ডাক' প্রেসিডেন্টে পরিণত করবে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নানা ধরনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হস্তগত করে, তবে তাঁর ক্ষমতার শেষ দুই বছর আরও বেশি জটিল ও অস্থির হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প নীতিগতভাবে ‘লেম ডাক’ বা প্রভাব-কর্তৃত্বহীন প্রেসিডেন্টে পরিণত হতে পারেন। রাজনৈতিক পরিভাষায় মেয়াদের শেষ পর্যায়ে থাকা প্রভাবহীন নেতাদের এই নামে অভিহিত করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ক্ষমতার লাগাম শিথিল হলে তিনি ব্যাকফুটে না গিয়ে আরও বেশি আক্রমণাত্মক বা প্রতিশোধপরায়ণ অবস্থান নিতে পারেন।
এই বিষয়ে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক পিটার লজ সংবাদসংস্থা এএফপিকে জানান, ট্রাম্পের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো পরিস্থিতির মুখে নীরব থাকার নজির নেই। পরাজয় মেনে নেওয়ার বদলে যেকোনো কোণঠাসা পরিস্থিতিতে তিনি লড়াইয়ের পথই বেছে নেন।
কংগ্রেসে ক্ষমতার রদবদল হলে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনিক কৌশল পরিবর্তনের আভাস ইতিমধ্যে দিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, ডেমোক্র্যাটরা কোনো বিল পাস করতে চাইলে তিনি ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করবেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা যদি তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করে, তবে বিচার বিভাগকে দিয়ে পাল্টা তদন্ত শুরু করার হুশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এছাড়া, ঘনিষ্ঠ আসনগুলোর ফলাফল অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটানো বা আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো পদক্ষেপও আসতে পারে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানদের হাতে থাকা একক ক্ষমতার ব্যবহার ট্রাম্পের মেয়াদে আরও দৃশ্যমান হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা নতুন রূপ নিতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও তিনি নিতে পারেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার লক্ষ্যে তিনি ইউক্রেনের ওপর চাপ বজায় রাখতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চীন ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ন্যাটোর মতো আন্তর্জাতিক জোটগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ পর্যালোচনার কাজ অব্যাহত রাখতে পারেন ট্রাম্প।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ট্রাম্পের পক্ষে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ নেই। তবে বিশ্লেষক ও গবেষকদের মতে, রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে 'কিংমেকার' হিসেবে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখে মার্কিন রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











