জোরপূর্বক শিক্ষক পদত্যাগ অবৈধ, স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ হাইকোর্টের

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:৪০
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
জোরপূর্বক শিক্ষক পদত্যাগ অবৈধ, স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ হাইকোর্টের
ছবি সংগৃহীত

শিক্ষকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক নেওয়া পদত্যাগপত্রের কোনো আইনি বৈধতা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষককে অবিলম্বে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া, সভাপতির অপসারণ এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমপিও বন্ধের মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করেছেন আদালত। 'মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদ বনাম রাষ্ট্র' মামলার শুনানি শেষে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

​মামলার পটভূমি ও আদেশের বিস্তার

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদকে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। ওই ঘটনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হলে শুনানি শেষে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির মাধ্যমে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে একইভাবে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষকদের পুনর্বহালের আইনি পথ এই রায়ের মাধ্যমে উন্মুক্ত হলো।

​আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনি লড়াই চালান আইনজীবী মো. জহুরুল ইসলাম মুকুল ও মানবেন্দ্র রায়। অন্যদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম রেজাউল ইসলাম।

​আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট আলকাছ উদ্দিনকে একদল লোক জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। পরদিন তিনি কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাউশি মহাপরিচালক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে আইনি প্রতিকার চেয়ে আবেদন জানান।

​পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহালের নির্দেশ দিলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি। ফলে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আলকাছ উদ্দিন। প্রাথমিক শুনানিতে আদালত রুল জারির পাশাপাশি পদত্যাগের কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং চূড়ান্ত শুনানি শেষে তা নিস্পতি করে এই রায় প্রদান করেন।

​হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, চাপের মুখে গৃহীত স্বাক্ষর কখনোই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না এবং আইনি বিধিতে এর কোনো স্থান নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে শিক্ষা বোর্ডের আদেশ মানতে পরিচালনা পর্ষদ বাধ্য ছিল। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করা প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, রিটকারীকে দ্রুত স্বপদে ফিরিয়ে আনতে হবে। এতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ড ও মাউশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0