ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানের আইনি স্ট্যাটাস নিয়ে অনিশ্চয়তা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

১৭ আগস্ট ২০২৬ - ১৩:০৭
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানের আইনি স্ট্যাটাস নিয়ে অনিশ্চয়তা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক কোন রাজনৈতিক বা আইনি স্ট্যাটাসে সে দেশে অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কে বাংলাদেশের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

​সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠিয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাকে ফিরিয়ে আনার সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

​সম্প্রতি একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে ভারতীয় আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। এই প্রসঙ্গের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কি না বা তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানের ধরণ কী, সে বিষয়ে স্পষ্ট বিবরণ দেওয়া হয়নি। ফলে নির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে ওই প্রতিবেদনের ওপর কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

​তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকার এখনও জানে না যে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনা কী স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন। তাই ভারতীয় আদালতের অনুমতির বিষয়টি ঠিক কী প্রেক্ষাপটে বা অর্থে বলা হয়েছে, তাও পরিষ্কার নয়।

​অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ও আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বর্তমান রাজনৈতিক বা আইনি প্রেক্ষাপটের কোনো যোগসূত্র নেই বলে স্পষ্ট করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ থেকে অপহৃত হয়ে ভারতে যাওয়ার পর শিলংয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়, যেখানে তিনি পরবর্তীতে খালাস পান এবং বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

​এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট সাত আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শেষ হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউশন।

​প্রসিকিউটর জানান, ওই আন্দোলনে আসামিদের সরাসরি ভূমিকার কারণে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন। এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আসামিদের সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে এবং ট্রাইব্যুনাল তাদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করবেন বলে আশা ব্যক্ত করা হয়।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0