যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: অর্থনৈতিক সংকট ও ট্রাম্পের নীতিতে চাপে রিপাবলিকানরা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ক্ষমতার মসনদে থাকা রিপাবলিকান পার্টি। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাধারণ ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের নীতিকে দায়ী করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনী মাঠে রিপাবলিকানদের জন্য এবার চাপ অনেক বেশি। জীবনযাত্রার খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ঢালাও শুল্ক আরোপ ও ইরান যুদ্ধ-সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো মার্কিন নাগরিকদের ওপর আর্থিক সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা।
ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান টম ডেভিস জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত শুল্কনীতি এবং জ্বালানি বাজারে চলমান যুদ্ধের প্রভাব মূলত প্রেসিডেন্সিয়াল সিদ্ধান্তের ফসল, যা আমজনতার দৈনন্দিন আর্থিক চাপকে ভারী করেছে। ট্রাম্পের এসব বিতর্কিত শুল্কনীতি, যুদ্ধ পরিচালনা ও স্বাস্থ্যসেবার বাজেট ছাঁটাই প্রস্তাবের পক্ষে কংগ্রেস ও সিনেটের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা শুরু থেকেই একজোড়া হয়ে সমর্থন দিয়ে আসছেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তের নেতিবাচক দায় এখন পুরো রিপাবলিকান পার্টির ওপর এসে পড়েছে।
বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা এই অর্থনৈতিক সংকট ও সিদ্ধান্তগুলোকে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা শুল্ক বৃদ্ধি, যুদ্ধ ও স্বাস্থ্যসেবার বাজেট ছাঁটাইয়ের বিষয়গুলো তুলে ধরে রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালাচ্ছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, ওহাইও ও আইওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটাররা নিত্যপণ্যের চড়া দামের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন। এমনকি শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী শ্রেণী এবং রিপাবলিকানদের নিজস্ব সমর্থকদের একটি বড় অংশও এই অর্থনৈতিক কঠিন বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন।
নির্বাচনী বিপর্যয় এড়াতে অনেক রিপাবলিকান প্রার্থী কৌশলগতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে এতে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের সমর্থন হারানোর নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিকূল এই পরিস্থিতি সামাল দিতে রিপাবলিকান নেতৃত্ব এখন ভোটারদের মনোযোগ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও করছাড়ের নতুন প্রতিশ্রুতির দিকে ঘোরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পথে যেসব চ্যালেঞ্জ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমায় ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা তাদের জয়কে কঠিন করে তুলতে পারে। রাজনৈতিক সীমানা পুনর্বিন্যাসের কারণে প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে বাধা হতে পারে। পাশাপাশি তরুণ ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কা, রিপাবলিকানদের বড় নির্বাচনী তহবিল এবং ডেমোক্র্যাটদের ‘সমাজতান্ত্রিক’ হিসেবে তুলে ধরে রিপাবলিকানদের অপপ্রচার দোটানায় থাকা সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে।
ঘাঁটিগুলোতে ট্রাম্পের জোর প্রচারণা
কঠিন এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজের মেয়াদের শেষ দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ট্রাম্প তাঁর শক্তিশালী ঘাঁটিগুলোতে জোর প্রচারণা শুরু করেছেন। ওহাইও, আলাস্কা, অ্যারিজোনা ও মন্টানার মতো রিপাবলিকান-বান্ধব অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনী র্যালি করছেন তিনি। ওহাইওতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে থাকা রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড এবং আলাস্কায় সিনেটর ড্যান সুলিভানের সমর্থনে নিয়মিত সভা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











