ট্রাম্পের শান্তিতে নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু, কী বলছেন বিশ্লেষকরা?
ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার কারণে চলতি ২০২৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিষয়ের বিশ্লেষকরা। তবে পুরস্কার বিজয়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নরওয়ের নোবেল কমিটির ওপর তাঁর প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপের দিকটি বিবেচনায় থাকতে পারে। আগামী ৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
বিগত বিতর্ক ও নোবেল কমিটির ওপর চাপ
গত বছর ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলের নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল প্রদান করা হয়, যা নোবেল পুরস্কারের ১২৫ বছরের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছিল। সে সময় ট্রাম্প নিজেও পুরস্কারটি পাওয়ার জন্য জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে পুরস্কার পাওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় মাচাদো তাঁর নোবেল পদকটি ট্রাম্পকে হস্তান্তর করেন। ধারণা করা হয়, ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লড়াইয়ে ট্রাম্পের সমর্থন নিশ্চিত করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
নরওয়ের 'পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো'-র ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলোভ জানান, গত বছরের ঘটনা এবার নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে স্পষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এমন কাউকে বিজয়ী হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি অত্যন্ত সতর্ক থাকবে, যিনি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা রাজনৈতিক চাপ সামলাতে সক্ষম হবেন।
যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে
চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য দৌড়বিদদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনের নাম আলোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং ফিলিস্তিন ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা আলবানিজ।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রথম পোপ লিও প্রতিনিয়ত যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নিয়ে আসছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সমালোচনা করায় ট্রাম্প তাঁকে ‘দুর্বল’ বলেও আখ্যা দেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত বিষয়াদিতে পোপের অবস্থান, সংলাপের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা, শরণার্থী অধিকার রক্ষা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি নোবেল পাওয়ার শক্তিশালী দাবিদার হতে পারেন। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক করিম হাগাগ বলেন, পোপ কেবল একজন ধর্মীয় নেতাই নন, তিনি বিশ্বপর্যায়ের এক শীর্ষস্থানীয় চিন্তাবিদ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে ফ্রান্সেসকা আলবানিজ গাজায় ইসরায়েল বাহিনীর সামরিক অভিযান ও পশ্চিম তীরে দখলদারিত্বের ধারাবাহিক সমালোচনা করে নজর কেড়েছেন, যদিও এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
কম বিতর্কিত প্রার্থীর সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের বিতর্কের পর নোবেল কমিটি ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ এড়াতে কম বিতর্কিত বা তুলনামূলক নিরাপদ কোনো ব্যক্তি বা মানবিক সংস্থাকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। এ তালিকায় সুদানের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের মধ্যে সাধারণ মানুষকে জরুরি সহায়তা দেওয়া স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ এবং শিশু অধিকারবিষয়ক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর নাম উঠে এসেছে।
তবে ইতিহাসবিদ ওইভিন্দ স্টেনারসেনের মতে, বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও উদার গণতন্ত্র রক্ষার পক্ষে শক্তিশালী বার্তা দেওয়াই নোবেল কমিটির মূল লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে (আইসিজে) সম্মানিত করা হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের শাসন ও রাষ্ট্রগুলোর শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তির প্রতি বিশ্ববাসীর স্পষ্ট সমর্থন প্রকাশ করবে।
ট্রাম্পের সম্ভাবনা ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা ট্রাম্পকে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা 'খুবই ক্ষীণ' বলে মনে করছেন বিশ্লেষক হাকন গেরলোভ।
এদিকে নোবেল প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শান্তিতে নোবেলজয়ী ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, বিশ্বের ভাগ্য বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাবিকাঠি কোনো বলপ্রয়োগকারীর হাতে থাকা উচিত নয়। শক্তি প্রয়োগ কখনোই সত্য বা সঠিক পন্থা নির্ধারণ করতে পারে না।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











