নিরাপত্তা হুমকির মুখে ব্রিটেন থেকে সব বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

০৫ অক্টোবর ২০২৬ - ০৯:৫৭
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
নিরাপত্তা হুমকির মুখে ব্রিটেন থেকে সব বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে মোতায়েন করা দূরপাল্লার সব মার্কিন বোমারু বিমান নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি অজ্ঞাত নিরাপত্তা হুমকির পর হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে সিএনএন।

​মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাজ্যের 'আরএএফ ফেয়ারফোর্ড' সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন বোমারু বিমানগুলোকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের হুমকির কারণে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একটি সূত্র এই হুমকিকে একটি 'বাস্তব ঘটনা' হিসেবে বর্ণনা করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিলে বিমানগুলোকে সাধারণত ওই অঞ্চলের অন্য কোনো ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়াকে তুলনামূলকভাবে ব্যতিক্রমী ও অস্বাভাবিক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

​এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

​ষড়যন্ত্রের তদন্ত ও সাম্প্রতিক গ্রেফতার

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের 'বি-১' বোমারু বিমান মোতায়েন ছিল, যা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। দূরপাল্লার হামলা পরিচালনাকারী মার্কিন গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের একটি প্রধান অপারেটিং লোকেশন হিসেবেও ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়।

​ঘাঁটিটিকে ঘিরে একটি সম্ভাব্য চক্রান্তের তদন্ত চলার মধ্যেই বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত এলো। এর আগে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ ঘাঁটিটির কাছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। ঘটনার স্থানে উদ্ধার করা তিনটি ভ্যানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। তবে সন্দেহভাজনদের দ্রুত জামিনে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি এমনটা করতেন না।

​পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার একই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককেও গ্রেফতার করা হয়।

​ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ও প্রত্যাখ্যান

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, এই ঘটনার পেছনে ইরানের সম্পৃক্ততার জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ষড়যন্ত্রটির পেছনে কোনো 'বিদেশি শক্তির' হাত রয়েছে।

​তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচারণার প্রতিবাদ জানাতে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরান সরকার।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0