নেপালে পর্বতাভিযানে তুষারধস: ২ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ অন্তত ১০
নেপালের হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্পে এক ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনায় দুজন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনও অন্তত ১০ থেকে ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকালে দেশটির মানাং জেলায় অবস্থিত হিমলুং হিমাল পর্বতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে নেপালি পর্বতারোহী ও সহকারী কর্মীদের একটি দল বিদেশি অভিযাত্রীদের আগমনের আগেই ক্যাম্প স্থাপন, পথ তৈরি ও দড়ি টাঙানোর কাজ করছিল। সম্প্রতি ওই অঞ্চলে প্রচুর তুষারপাত হওয়ায় কাজ চলাকালেই আকস্মিক এই তুষারধস নেমে আসে।
প্রতিকূল আবহাওয়ায় উদ্ধারকাজে বাধা
হিমালয় হলিডেজ ট্রেকিংয়ের কর্মকর্তা বিভূতি চাঁদ ঠাকুর জানান, তাদের নিজস্ব দলেরই অন্তত ৮ জন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তবে মোট নিখোঁজের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলে সাম্প্রতিক সময়ের ভারী তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শুরুতে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে কাঠমান্ডু থেকে অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দলকে হেলিকপ্টারে করে ঘটনাস্থলে পাঠানো হলেও আবহাওয়া খারাপ থাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে।
পাহাড়ি অঞ্চলে চরম প্রাকৃতিক ঝুঁকি
সম্প্রতি নেপালের বিভিন্ন পার্বত্য এলাকায় টানা বৃষ্টি ও তুষারপাতের ফলে পর্বতারোহণে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তুষারধসের আশঙ্কায় বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ শৃঙ্গ 'মানাসলু' থেকে পর্বতারোহীদের নিরাপদ স্থানে নামিয়ে আনা হয়।
উল্লেখ্য, এর দুই মাসেরও কম সময় আগে পাকিস্তানের ব্রড পিকে দুর্ঘটনায় ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজার টিমের সদস্যসহ ৬ জন পর্বতারোহী প্রাণ হারান। তা ছাড়া, গত আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে ত্রিশূলী নদীতে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ বন্যায় ১,৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় এবং ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হন। একই সময়ে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া দেখা দেয় এবং ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











