যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বা কূটনীতি: যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ইরান

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:১১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বা কূটনীতি: যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ইরান
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় নতুন কোনো সংঘাত বা বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হলে তা মোকাবিলায় ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে সামরিক অবস্থানের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের পথও তেহরান খোলা রাখতে চায় বলে জানান তিনি।

​ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তেহরান

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো নতুন সামরিক আগ্রাসনের মুখে ইরান দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে। পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গড়ালেও তারা পিছু হটবেন না। তবে একই সঙ্গে শান্তির জন্য কূটনৈতিক দরজাও খোলা রয়েছে এবং বিষয়টি এখন পুরোপুরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

​কাতারের মধ্যস্থতায় পাঠানো ৭ দিনের প্রস্তাব

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সমঝোতা প্রস্তাব পাঠায় তেহরান। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, সাত দিনের মধ্যে বহুল আলোচিত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে স্বাভাবিক নৌযান চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানের অর্থ-সম্পদ ছাড়তে হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির সুযোগ দিতে হবে।

​আরাগচি জানান, এসব শর্ত নতুন কিছু নয়; গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি সমঝোতাতেও এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ওয়াশিংটন পরবর্তীতে চুক্তি লঙ্ঘন করে নতুন হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

​যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যান ও রাজনৈতিক অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে ইরানের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে আরাগচি জানান, ট্রাম্প জনসমক্ষে প্রস্তাবটি নাকচ করার কথা বললেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত তেহরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রত্যাখ্যানপত্র পাঠানো হয়নি। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

​অন্যদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানান, ইরানের জব্দ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়। পাশাপাশি অতীতে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক নৌপথে হামলার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ইরানের প্রতি আস্থার অভাব রয়েছে। সব মিলিয়ে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ নাকি চুক্তির পথে হাঁটা—সব পথই খোলা রাখছেন বলে জানা গেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0