সাইবার সুরক্ষা আইন: সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আদালতের অনুমতি

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৪:৪৫
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সাইবার সুরক্ষা আইন: সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আদালতের অনুমতি
ছবি: সংগৃহীত

সমাজের সর্বস্তরের নাগরিক, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষার লক্ষ্যে একটি সর্বজনগ্রাহ্য সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আয়োজিত এক অংশীজন সভায় এই প্রত্যাশার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

​সাংবাদিকদের সুরক্ষায় বিশেষ সুযোগ

আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই আইনটি গণমাধ্যম কিংবা সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে না। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কোনো কর্মী যেন অহেতুক হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিতে বিশেষ সুরক্ষাকবচ রাখা হচ্ছে। নতুন প্রস্তাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

​নির্দিষ্ট সময়ে আপিল নিষ্পত্তি ও সমন্বয়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে আপিল নিষ্পত্তির জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে কোনো পক্ষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলতে হবে না। অংশীজনদের দেওয়া বিভিন্ন পরামর্শ সমন্বয়ের জন্য প্রেস ইনফরমেশন ইউনিট (পিআইইউ)-কে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই পুরো বিষয়টি তদারকি করবে।

​এ ছাড়া এই আইন তৈরিতে সম্পাদক পরিষদ ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

​সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরবর্তী পদক্ষেপ

আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের সুপারিশগুলো পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাপ্ত সুপারিশ বিশ্লেষণ করে ১৫ দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগে খসড়াটি সর্বসাধারণ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। সেখান থেকে গ্রহণযোগ্য মতামতগুলো আইনি কাঠামোতে যুক্ত করা হবে।

​পরবর্তীতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার অনুমোদন শেষে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংসদে বিল আকারে উপস্থাপিত হবে। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম থেকে আসা যুক্তিযুক্ত মতামতগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

​সারসংক্ষেপ:

সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ সংশোধনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের পূর্বানুমতির প্রস্তাব যুক্ত করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে সংকুচিত না করে সবার সুরক্ষায় এই আইন সর্বজনগ্রাহ্য করার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0