নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত অন্তত ১৫৭, পর্যটকসহ নিখোঁজ শতাধিক

২৭ আগস্ট ২০২৬ - ০০:২০
প্রকাশিত: ২ মাস আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত অন্তত ১৫৭, পর্যটকসহ নিখোঁজ শতাধিক

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় থেকে বরফ ও পাথরের বিশালাকার ধস নেমে আসার পর সৃষ্ট এই বিধ্বংসী ঢলে অন্তত ১৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটকসহ আরও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যার তোড়ে পার্বত্য অঞ্চলের বহু গ্রাম, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ধুয়েমুছে গেছে।

​বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ শত শত ভ্রমণকারী

উদ্ধারকারীদের দেওয়া তথ্যমতে, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিকসহ বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। নেপাল পর্যটন বোর্ড এক প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ট্রাভেল ও ট্যুর এজেন্সিগুলোর প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলো থেকে অন্তত ৩৮৪ জন ভ্রমণকারী নিখোঁজ হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি পর্যটক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। দুর্যোগপূর্ণ দুর্গম এলাকায় নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধান ও অবস্থান শনাক্তে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি কর্তৃপক্ষ।

​ভূমিকম্প নয়, ভূমিধসের কারণে বিপর্যয়: ইউএসজিএস

প্রাথমিকভাবে দুর্যোগের পেছনে ভূকম্পনের কথা বলা হলেও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) তা খণ্ডন করেছে। ইউএসজিএস-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিধ্বংসী এই আকস্মিক বন্যায় রূপ নেওয়ার আগে ওই এলাকায় কোনো ভূকম্পন ঘটেনি। মূলত পাহাড়ি এলাকায় বিশাল ভূমিধসের পরপরই এই প্রলয়ংকারী ঢল ও প্লাবনের সৃষ্টি হয়েছে।

​দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কা ও উদ্ধার অভিযান

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন করে ফের বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। কাঠমান্ডুভিত্তিক পরিবেশ সংস্থা 'ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট'-এর জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান ছিয়াংগং ঝাং জানিয়েছেন, নেপাল-চীন সীমান্ত নদীতে উজান থেকে আসা ধসের কারণে পলি ও ধ্বংসাবশেষ জমে এখনো পানিপ্রবাহ অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এতে যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় আকস্মিক ঢল নামতে পারে।

​এদিকে, ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের সন্ধানে চীনা প্রশাসনও তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধার কাজে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্বিতীয় দফার ঝুঁকি এড়াতে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ও আগাম সতর্কতা জোরদারের ওপর তাগিদ দিয়েছেন। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত সংলগ্ন জিরোং (Gyirong) ক্রসিং এলাকায় অন্তত ৫৭৪ জন উদ্ধারকারী সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

​দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

সংকটময় এই মুহূর্তে দেশের জনগণকে ধৈর্য ও সংহতি বজায় রাখার আকুল আবেদন জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, "অনুগ্রহ করে সবাই ধৈর্য ধরুন। উদ্ধার অভিযান, বিনামূল্যে চিকিৎসা, খাদ্য এবং বাসস্থানের পূর্ণ দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করছে। এই কঠিন বিপর্যয়ের দিনে আমাদের সবাইকে এক হয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে।"

সুত্র: দ্য গার্ডিয়ান

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0