নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারি

১১ অক্টোবর ২০২৬ - ১৬:০৮
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারি
ছবি সংগৃহীত

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পাশাপাশি গভর্নর শাসন জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সুপারিশ অনুমোদন দেওয়ার পর রোববার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

​প্রেসিডেন্ট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের ওপর ভিত্তি করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৩২ অনুচ্ছেদে জরুরি অবস্থা এবং ২৩৪ অনুচ্ছেদে গভর্নর শাসন জারির রূপরেখা রয়েছে।

​এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রদেশটির সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়। বৈঠকে প্রাদেশিক সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে অনীহা প্রকাশ ও নিজেদের গুটিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় মন্ত্রিসভা জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসনের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। এই অনুমোদনের পরপরই মুহাম্মদ ফখর আলম ইরফানকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার নতুন মুখ্যসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

​পাকিস্তানের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি আগ্রাসন বা অভ্যন্তরীণ মারাত্মক অস্থিরতার কারণে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে ২৩২ অনুচ্ছেদে প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন। তবে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক পরিষদের প্রস্তাবের প্রয়োজন পড়ে। অপরদিকে, কোনো প্রদেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হলে ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে গভর্নর শাসন জারি করা হয়, যা দুই মাসের মধ্যে সংসদের যৌথ অধিবেশনে পাস হতে হয় এবং অনুমোদন পেলেও ছয় মাসের বেশি বহাল রাখা যায় না।

​এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপকে 'গণতন্ত্রবিরোধী' ও বড় ধরনের 'রাজনৈতিক ভুল' হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান গোহর আলী খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন খর্ব করার মাধ্যমে দেশে শান্তি আনা সম্ভব নয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

​অপরদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি সীমান্ত পারের সন্ত্রাসবাদ রুখতে আফগানিস্তানের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে তিনি আইএমএফের ১.২ বিলিয়ন ডলারের আসন্ন কিস্তি ছাড় এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0