হরমুজ প্রণালীতে অস্থায়ী নৌ-পথ চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনা
মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের মুখে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুনরায় উদ্যোগ নিয়েছে ইরান ও ওমান। প্রণালীটিতে ট্রাফিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও মাইন অপসারণে একটি যৌথ স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অস্থায়ী করিডোর ও মাইন অপসারণের সিদ্ধান্ত
তেহরানে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আল-বুসাইদি এ বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা হরমুজ প্রণালীতে একটি ‘যৌথ অস্থায়ী নৌ-পরিবহন করিডোর’ গঠন এবং যৌথভাবে সমুদ্রপথ মাইনমুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি জানান।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোপূর্বে প্রণালীর সব মাইন পরিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন, বাস্তব চিত্রে এই জলপথটি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইউকে মেরিন ট্রেড অপারেশন্সের দেয়া তথ্যমতে, ওমানের আশ শিসাহ্ উপকূল থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রক্ষেপকের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অচল হয়ে পড়ে।
বারন ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক
প্রণালী সংক্রান্ত আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের টানাপোড়েনে যুক্ত হয়েছে নতুন উপাদান। ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত তিন মিনিটের একটি ভিডিওতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছোট ছেলে বারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের কথা প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, তার ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং তাকে হত্যার বিনিময়ে এক কোটি ডলার পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস অবগত রয়েছে বলে জানিয়েছে।
মার্কিন মিশন পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার
উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত পেয়ে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের খালি করা কিছু কূটনৈতিক মিশনে কর্মীদের ফেরাতে শুরু করেছে। তবে আপাতত পূর্ণ সক্ষমতায় এসব দূতাবাস চালু করা হচ্ছে না।
অন্যদিকে, ইরানের অর্থনৈতিক পথ রুদ্ধ করতে যেসব দেশ তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য বজায় রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়ীরা এই হুমকি উপেক্ষা করায় অপরিশোধিত তেলের দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হ্রাস পেয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন এই পদক্ষপকে ‘চরম বেআইনি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সূচক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











