কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনায় লেক ওন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ রাখতে চান ট্রাম্প

২৬ আগস্ট ২০২৬ - ০০:৩২
প্রকাশিত: ২ মাস আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনায় লেক ওন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ রাখতে চান ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

কানাডার সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর আমেরিকার অন্যতম প্রধান জলভাগ ‘লেক ওন্টারিও’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার বিষয়টি ওয়াশিংটন গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে কানাডার ফরাসি ভাষা সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতাকে কেন্দ্র করে দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার দাবি তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

​সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের বক্তব্য

মঙ্গলবার নিজস্ব ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ওন্টারিও প্রদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো ব্যাপকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করবে না। ফলে লেক ওন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

​উল্লেখ্য, কানাডার ওন্টারিও প্রদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত এই লেক ওন্টারিও উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ পাঁচটি জলাশয়ের একটি। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

​অটোয়া ও ওন্টারিওর প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে কানাডার মার্কিন বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক লেব্লাঙ্ক জানান, মার্কিন প্রশাসনের দৈনন্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা মন্তব্যের জবাব না দেওয়ার নীতি মেনে চলছে অটোয়া।

​অন্যদিকে, ওন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে কেবলই রাজনৈতিক বক্তৃতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আলাদাভাবে হিসাব করে, তবে ওন্টারিও একাই তাদের বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হতে পারে। এছাড়া কানাডা আমেরিকার প্রায় ১৭টি অঙ্গরাজ্যের প্রধান এবং ১২টি অঙ্গরাজ্যের দ্বিতীয় প্রধান বাণিজ্যিক গ্রাহক।

​ফরাসি ভাষা বিতর্ক ও বাণিজ্য আলোচনা

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়া শেষ হয়। এর পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অভিযোগ করেন, মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা কানাডার ফরাসি ভাষার আইনি সুরক্ষা এবং কুইবেকের কন্টেন্ট অগ্রাধিকার আইন শিথিল করার দাবি তোলায় চুক্তিটি বাস্তবায়িত হতে পারেনি।

​ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ফরাসি ভাষায় কথা বলার বিষয়ে কানাডীয়দের ওপর হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছাই তাঁর নেই। রাজনৈতিক সমর্থন হারানোর ভয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্নি মিথ্যা বানোয়াট দাবি করছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, ফরাসিভাষী কানাডীয়দের তিনি শ্রদ্ধা ও পছন্দ করেন।

সুত্র: রয়টার্স

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0