হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের তাণ্ডবে নিহত ৪৭, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনক্ষোভ

২৫ আগস্ট ২০২৬ - ১৬:১৯
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের তাণ্ডবে নিহত ৪৭, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের সন্নিকটস্থ কেনসকফ এলাকায় একটি সশস্ত্র গ্যাংয়ের নারকীয় হামলায় কমপক্ষে ৪৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার (২৪ আগস্ট) গভীর রাতের এই তাণ্ডবে আরও অন্তত ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর নিরাপত্তা দিতে চরম ব্যর্থতার অভিযোগ এনে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা আঞ্চলিক পুলিশ প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছেন।

​পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে অস্ত্রধারীরা কেনসকফ এলাকায় আচমকা হামলা চালায় এবং বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশপাশেই পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। সংঘাত চলাকালে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হলেও নিহতদের মধ্যে হামলাকারী গ্যাংয়ের সদস্য ছিল কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

​কেনসকফে 지속 সহিংসতা

রাজধানীর কৌশলগত প্রবেশদ্বারে অবস্থিত পাহাড়ি কেনসকফ অঞ্চলটিতে গত বছরের শুরু থেকেই সন্ত্রাসী গ্যাংগুলোর প্রভাব ও তাণ্ডব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিগত বছরের প্রথম দুই মাসেই সেখানে ২৬০ জনের বেশি সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারান এবং ধ্বংস করা হয় প্রায় ২০০ ঘরবাড়ি। ওই সময়ে প্রাণ বাঁচাতে ভিটেমাটি ছাড়েন অন্তত তিন হাজার মানুষ। এরপরও এলাকাটিতে বেশ কয়েকটি রক্তক্ষয়ী হামলা, অপহরণ, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

​নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ

হাইতি সরকার এই হামলাকে অত্যন্ত নৃশংস ও জঘন্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে কেনসকফে দ্রুত বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সরকারের একাধিক আশ্বাস সত্ত্বেও বাস্তব পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। দীর্ঘ এক দশক পর আগামী ডিসেম্বরে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, কিন্তু বর্তমান চরম নিরাপত্তাহীনতায় এই নির্বাচন পুনর্নির্ধারণের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি নিরাপত্তা মিশন বাহিনী সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, যাদের সদস্যসংখ্যা চলতি শরতে সাড়ে পাঁচ হাজারে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0