ইরানের অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট' ঘোষণা

২৫ আগস্ট ২০২৬ - ০৭:৪৫
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইরানের অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট' ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। ছবি: আল-জাজিরা

ওয়াশিংটন: ইরানের অর্থনীতিকে বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে নতুন ও ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের এই নজিরবিহীন অভিযানের লক্ষ্য হলো তেহরানের আয়ের সব উৎস বন্ধ করে দিয়ে দেশটিকে বিশ্ব বাণিজ্য থেকে পুরোপুরি একা করে ফেলা।

​সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন অর্থ দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তিনি এই অভিযানকে অর্থনৈতিক 'ডি-ডে' হিসেবে বর্ণনা করেন।

​পাঁচটি প্রধান খাত ও সেকেন্ডারি স্যাংশন

সংবাদ সম্মেলনে স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানের পাঁচটি মূল অর্থনৈতিক খাতকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এগুলো হলো—ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল এবং জাহাজ চলাচল।

​তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে ব্যবসা অব্যাহত রাখবে, তারা মার্কিন সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে। বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বেসেন্ট বলেন, "বিশ্বের সব দেশকে এখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। যারা ইরানের স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে, তাদের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরিণতি ভোগ করতে হবে।"

​এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডের অন্তত ৬০টি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জলযানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ।

​অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক বার্তা

মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় অস্থিরতার ঝুঁকি রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, “আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক আর্থিক খাতকে সংকটে ফেলতে চাই না, বরং অভিযুক্তদের অবস্থান শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছি।”

​অন্যদিকে, পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, এই তীব্র অর্থনৈতিক চাপ তেহরানকে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করবে। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পুনরায় সামরিক হামলা চালানোর পথও খোলা রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

​সংকটের পটভূমি ও তেহরানের প্রতিক্রিয়া

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাসের যুদ্ধে একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নিহত হলেও তেহরানের শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হয়নি। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায় এবং বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালী' অবরুদ্ধ করে ফেলে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চরম আকার ধারণ করে।

​যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন প্রচেষ্টাকে পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নতুন কিছু নয়। অন্য কোনো সমাধান না পেয়ে মার্কিন প্রশাসন একই পুরোনো ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে।”

​তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি'র ফেলো সিনা টুসি মনে করেন, সামরিক অভিযানে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সাফল্য না আসায় ওয়াশিংটন এখন অর্থনৈতিক যুদ্ধ জোরদার করার কৌশল নিয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0